প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, নারীদের মারপিট!

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৭
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্য্যালয়ের প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় রীতিমতো ত্রাস সৃষ্টি করেছিলেন জনৈক জুনায়েত হোসেন। ওসি, এসপিসহ পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের ফোন করে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন তার অন্যায় কাজের সহায়তা করার জন্য। আর দুলাভাই ভীষণ ‘ক্ষমতাধর’ জেনেই তার সঙ্গে জুটে যান খুলনার বয়রা এলাকার বাসিন্দা জুনায়েতের শ্যালক আব্দুল হাদী। দুলাভাইয়ের কাল্পনিক ক্ষমতার বলে বলীয়ান হয়ে কয়েক দুর্বৃত্ত নিয়ে আব্দুল হাদী রবিবার বটিয়াঘাটায় আসেন জোর করে স্থানীয় এক ব্যক্তির সম্পত্তি দখল করতে। নিজেদের জায়গা দখলে বাধা দিতে গেলে তারা পিটিয়ে ও কুপিয়ে তিন নারীকে জখম করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে এভাবে ত্রাস ও প্রভাব সৃষ্টির ব্যাপারে খোঁজ নিতে গেলে ‘প্রটোকল অফিসার’ জুনায়েত ফোন বন্ধ করে দেন! পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানায়, রবিবার বেলা দুইটার দিকে মোটর সাইকেল এবং নসিমন যোগে ১০/১২ জন সন্ত্রাসী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আকস্মিক ভাবে একটি ঘর ভাংচুর করতে থাকে। এসময় জায়গার মালিকের স্ত্রী গীতা মন্ডল (৪৫), যশোবন্ত বালার স্ত্রী বেবী রানী বালা (৩০) ও নিখিল বালার স্ত্রী ছনেকা বালা (৩৬) বাধা দিলে তাদেরকে কুপিয়ে এবং হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করা হয়। আহতরা এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য বিবেক বিশ্বাস জানান, নতুন সড়ক স্থাপন হওয়ার পরে জায়গার মুল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় হঠাত্ করে সেদিন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয়ে এক জোনায়েত হোসেন এবং তার শ্যালক আব্দুল হাদী তাদের জায়গায় ঘর তুলে দেন। পরে নদীর পাশে ভিন্ন একটি দাগের জমি দখল করার চেষ্টা চালান। জানা গেছে, জোনায়েত হোসেনের শশুর আব্দুল বারিক ৬৯৩ দাগে জায়গা কেনেন। পরে তিনি জোর খাটিয়ে বেআইনিভাবে ৬৮৯ দাগের জায়গা অতিরিক্ত দখলের চেষ্টা করেন। তিনি এলাকায় প্রবেশ করলে গ্রামের সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারেনা। প্রধানমন্ত্রীর অফিসের নাম ভাঙানোর কারণে প্রশাসনের লোকজন কিছু বলতে পারে না। বিষয়টি নিয়ে বটিয়াঘাটা থানার ওসি হেলাল উদ্দিনের সাথে আলাপ কালে তিনি ইত্তেফাককে জানান, বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে জুনায়েত হোসেন ও তার শ্যালক আব্দুল হাদী আসতেন। রবিবার তাদের লোকজন এবং আব্দুল হাদী নিজেই এসে জায়গা দখল করতে গেলে বাধা দিয়ে তিন গৃহবধু জখম হন। বিষয়টি নিয়ে জায়গার এক মালিক জগদীস বালা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে শহর থেকে লোকজন এনে কয়েকজন মহিলাকে মারপিট করে আহত করা হয়েছে। বিষয়টি যেনে আমি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণসম্পাদক ও প্রধান মন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহাবুবুল আলম হানিফের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে যদি কেউ অপরাধ করে তবে বেঁধে রাখবেন।’ ঘটনার পর সহকারী পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, আমি পুলিশ সুপারের নির্দেশে ঘটনা স্থলে গিয়ে দেখি একটি ঘরে ভেঙ্গে পানির ভিতরে ফেলা হয়েছে। আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ওসিকে নির্দেশ দিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার তানভীর আহমেদ জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে তাকেও ফোন করেছিলেন জুনায়েত হোসেন। এদিকে, দুলাভাই জুনায়েত ফোন বন্ধ করে দেয়ায় বেকায়দায় পড়েছেন তার শ্যালক আব্দুল হাদী। গতকাল তিনি অসহায়ের মতো এই প্রতিবেদককে বলেন, দুলাভাই তো প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি এখন আমার ফোনও ধরছেন না। বুঝলাম না কি হলো!