বাংলাদেশে কারখানা সরিয়ে আনছে চীনা উদ্যোক্তারা

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৩
সস্তা শ্রমের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে পোশাক শিল্প কারখানা সরিয়ে আনছে বিশ্ব অর্থনীতির বৃহত্ শক্তি চীন। চীনা উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে গার্মেন্টস তৈরি করে তা নিজেদের দেশের ভোক্তাদের জন্য রপ্তানিও করছে। বর্তমানে দেশে চীনা পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা একশ ছাড়িয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের উদ্যোক্তারাও চীনের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জন্য কম দামে পোশাক রপ্তানি করছে। জানা গেছে, চীনের স্থানীয় খোলাবাজারে সবচেয়ে বড় খুচরা বিক্রি প্রতিষ্ঠান ভ্যানসেল ইতিমধ্যে কিছু প্যান্ট এবং শার্টের অর্ডার বাংলাদেশকে দিয়েছে। এছাড়া পশ্চিমা ক্রেতা ওশান এবং এইচ এন্ড এম চীনা বাজারে পোশাক সরবরাহের জন্য বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে কাজ করাচ্ছে। বর্তমানে একজন চীনা শ্রমিকের সর্বোচ্চ বেতন প্রতিমাসে চারশ থেকে পাঁচশ মার্কিন ডলার। আর বাংলাদেশের একজন শ্রমিকের সর্বোচ্চ বেতন ৭০ থেকে ১০০ মার্কিন ডলার। চীনা বিনিয়োগকারীদের মতে, এ পরিমাণ বেতন দিয়ে অনেক সময় কারখানা চালাতে গিয়ে উত্পাদন ব্যয় বেড়ে যায়। রপ্তানির ক্ষেত্রে অনেক সময় পুষিয়ে উঠা সম্ভব হলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে কম মূল্যে পোশাক রপ্তানি করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কারণ ১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশ চীনের সবচেয়ে বড় অংশ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত। চীনের বন্দর শহর নিনগোতে একটি গার্মেন্টস কারখানা চালান সেখানকার নাগরিক রোজা দাদা। দৈনিক ইত্তেফাককে তিনি বলেছেন, চীনে কারখানা চালানো এখন দুরূহ হয়ে পড়েছে। গত দু’ বছরে শ্রমিকদের বেতন যে হারে বেড়েছে তাতে বাংলাদেশে কারখানা সরিয়ে আনা ছাড়া কোন উপায় ছিলো না। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশে আরেক চীনা প্রতিষ্ঠান ফোর সিজন ফ্যাশনের জন্য কাজ করেন। রোজা দাদা আরো বলেন, তিনি শুধু পণ্য ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির জন্য ঢাকায় অফিস খোলেননি। তিনি চীনে পোশাক রপ্তানির বিষয়টিও তদারকি করছেন। চীনা উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্টস আমদানি করলে তাদের খরচ চীন থেকে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কম পড়ে। বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, তারা ৯০ শতাংশ গার্মেন্টস পণ্য যেমন টি-শার্ট, জিন্স এবং স্যুয়েটারে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পায়। তাদের মতে, শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত থাকলে চীনে রপ্তানি আরো বাড়বে। কয়েক বছর আগে চীনে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ দুই কোটি মার্কিন ডলারের মতো থাকলেও বর্তমানে তা ১৫ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এ রপ্তানি ৫০ কোটি ডলারে দাঁড়াবে বলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা আশা করছেন। তবে চীনা উদ্যোক্তাদের কারখানা সরিয়ে আনার খবরে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা কিছুটা শংকিত। একজন রপ্তানিকারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে বলেছেন, চীনা উদ্যোক্তারা এখানে ছোট একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করে। এর আদলে তারা বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অর্ডার নিয়ে আসে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করিয়ে নিয়ে তারা পুরো মুনাফা নিজেদের পকেটে পুরছে। এছাড়া চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো দরকারি কাঁচামাল তাদের নিজ দেশ থেকে আমদানি করার কারণে বাংলাদেশের পশ্চাত্সংযোগ শিল্প (ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মত দেন তিনি।