মিয়ানমারে তামা খনি সম্প্রসারণবিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের নেতাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ গঠন করা হয়। সম্প্রতি দেশটিতে শত শত লোক এই খনি সম্প্রসারণবিরোধী আন্দোলনে ফেটে পড়লে সরকার তাদের কঠোর হস্তে দমন করে। তখন দাঙ্গা পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জ ও দমনাভিযানে পণ্ড হয়ে যায় তাদের তিন মাসব্যাপী এ আন্দোলন। আন্দোলনে মদদদান ও বেআইনিভাবে বিক্ষোভ করার জন্য বিক্ষোভকারীদের নেতা মো থিউসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ওইদিন তাদের রেঙ্গুনের একটি আদালতে হাজির করা হলে তারা তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের পক্ষে জামিনের প্রার্থনা করলে আদালত তা না মঞ্জুর করে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, এ খনি সম্প্রসারণের নামে সরকার কৃষকদের তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করছে। কেননা নতুন করে শিল্প স্থাপনের উদ্যোগে অনেকের জমি অধিগ্রহণ করতে হচ্ছে সরকারকে। এ কারণে তারা তাদের জমিজমা রক্ষার্থে তখন আন্দোলনে নামে। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে স্যাগেইং নামক স্থানে শত কোটি ডলারের ওই খনি সম্প্রসারণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এর মাধ্যমে মালিকপক্ষ প্রায় ৭ হাজার ৮ শত একর জমি বেআইনিভাবে অধিগ্রহণ করছে। আর এতেই বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে তারা। মিয়ানমারের সর্ববৃহত্ এই তামা খনিটির মালিক যৌথভাবে দেশটির সেনাবাহিনী ও চীনের অস্ত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান নরিনকো। দীর্ঘ সেনা শাসনের পর সম্প্রতি গণতন্ত্রে উন্নীত হওয়া মিয়ানমারে বিভিন্ন সংস্কারের ধারাবাহিকতায় গণপ্রতিবাদ বিষয়ক আইনও শিথিল করা হয়েছে। কিন্তু গত সপ্তাহে দেশটির সরকার আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভস্থল থেকে সরে যেতে সময়সীমা বেঁধে দেয়। বিক্ষোভকারীরা এটা না শুনলে সরকার তাদের বিরুদ্বে কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এদিকে তামা খনি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও তা দমনে পুলিশের শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে তদন্তে নেতৃত্ব দিতে বিরোধীদলীয় নেত্রী অং সান সু চির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট থিয়েন সেইন।
