মুক্তিযোদ্ধা ছলিম বিশ্বাস ও কুষ্টিয়ার মুক্তিযুদ্ধ

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৪৬
মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়ার সবচেয়ে বড় রণাঙ্গন ও দুর্ভেদ্য ঘাঁটি ছিল সদর উপজেলার দুর্বাচারা গ্রাম। এই গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত, প্রশিক্ষণ ও থাকা-খাওয়াসহ নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ছলিম উদ্দিন বিশ্বাস। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের ডাকে সারাদেশ যখন উত্তাল সেই মুহূর্তে ছলিম উদ্দিন বিশ্বাস ও তার বড় ছেলে রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র শহিদুল ইসলাম এলাকার শত শত যুবককে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ ও সংগঠিত করেন। ছলিম উদ্দিন বিশ্বাস নিজে প্রথমে মুজিবনগরে ও পরে ভারত থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। যুদ্ধ পরিচালনায় দুর্বাচারা গ্রামে ছলিম উদ্দিন বিশ্বাস, মুক্তিযোদ্ধা মির্জা জিয়াউল বারী নোমান, সামসুল হাদী, খাইরুল ইসলাম বাবু প্রমুখ নেতৃত্ব দেন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বংশীতলা, করিমপুর ও দুর্বচারা গ্রামে পাক সেনাদের সাথে মুক্তি বাহিনীর তুমুল যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধের নেতৃত্বে দেন মুক্তিযোদ্ধা ছলিম উদ্দিন বিশ্বাস ও মির্জা জিয়াউল বারী নোমান। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বংশীতলায় সম্মুখযুদ্ধে ১৫৭ জন পাক সেনা নিহত হয়। এছাড়া পাক সেনাদের গুলিতে মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম, দিদার আলী বীর প্রতীক, ইয়াকুব আলী, দীল মোহাম্মদ, আব্দুল রাজ্জাক, ছরোয়ার হোসেন সুরুজ, মেজবাহ রহমান ও মিরাজ উদ্দিন শহীদ হন। উল্লেখ্য, বংশীতলায় পাক সেনা-মুক্তিবাহিনীর সম্মুখযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা ছলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে ব্যাপকসংখ্যক পাক সেনা নিহত হওয়ার খবরটি ওই সময় ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ৭১’ এর ৯ সেপ্টম্বর পাক সেনারা মুক্তিযোদ্ধা ছলিম উদ্দিন বিশ্বাসের বাড়িতে সেল নিক্ষেপ করে বাড়ি গুড়িয়ে দেয় এবং ওই এলাকার অধিকাংশ ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। এছাড়া ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার অন্তর্গত উজানগ্রাম ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে সম্মুখযুদ্ধে পাক সেনাদের সাথে সম্মুখযুদ্ধে ছলিম উদ্দিনের জ্যেষ্ঠ পুত্র রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র শহিদুল ইসলাম শহীদ হন।