এদেশে পণ্য উত্পাদন করে তা পুনঃরফতানির জন্য আলাদা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের দাবি করেছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশে কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এখানে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। আর এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এ দেশে উত্পাদনকেন্দ্র গড়ে তুলতে আগ্রহী তারা।
রাজধানীর একটি হোটেলে চলমান তিনদিনব্যাপী ‘ইন্ডিয়া শো’র অংশ হিসেবে ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এই সম্ভাবনার কথা বলেন। সেমিনারে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা উভয় দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। গতকাল মঙ্গলবার এ বৈঠকের আয়োজন করে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) এবং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই)।
সেমিনারের অতিথি ভারতের বাণিজ্য সচিব এস আর রাও বলেন, ধারণা করা হচ্ছে আগামী ২০২০ সালে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের ৬০ শতাংশই এশিয়ার দেশগুলো থেকে পরিচালিত হবে। এশিয়ায় বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বসবাস করার এটাই সবচেয়ে বড় বাজার। তিনি বলেন, পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অনেক ক্ষেত্রেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা হবে। বাণিজ্য সচিব বলেন, ভারতের বিনিয়োগকারীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করছেন। বাংলাদেশে খুবই কম খরচে সবচেয়ে ভালো মূল্য সংযোজনে পণ্য উত্পাদন করা হচ্ছে। তাই ভারতের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দিকে আরও নজর দেয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এফআইসিসিআই সভাপতি রাজ্যবর্ধন কানোরিয়া বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে ভারতের ব্যবসায়ীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বহুমুখী ভিসা চালু, সহজে পণ্য পরিবহন করতে বহুমুখী পরিবহন ব্যবস্থা চালু, ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য এদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া অশুল্ক বাধা দূর করা, বেনাপোল-পেত্রাপোল স্থলবন্দরের আধুনিকায়নসহ অবকাঠামো উন্নয়ন, বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্যের প্রদর্শনী, ভারতে বাংলাদেশের পণ্যের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা এবং ব্যাংকিং সুবিধা আরও বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহ্মদ বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে এশিয়ার যে কোনো দেশের চেয়ে বাংলাদেশ ভালো জায়গা। এদেশের প্রবৃদ্ধির হার ভালো। ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, মদ ও তামাকজাতীয় পণ্য ছাড়া সব পণ্যে ভারত বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। তাতে আমাদের রফতানি বাড়ার কথা হলেও তা বাড়ছে না। বরং কমছে। এর কারণ হলো, রফতানি করার মতো পর্যাপ্ত পণ্য আমাদের নেই। আমরা যেসব পণ্য রফতানি করি, সেসব পণ্য ভারতও উত্পাদন করে।
