আন্তর্জাতিক মানের ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৫২
শিক্ষার্থীদের উচ্চ ডিগ্রি এবং ক্যারিয়ার ভাবনা শুরু হয় এইচএসসি পাশের পর থেকেই। এ সময় ক্যারিয়ার গড়া নিয়ে তাদের মধ্যে থাকে নানা দুঃশচিন্তা। তবে উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে শুধু মেধা থাকলেই চলে না, সাথে সমন্বয় থাকতে হবে ভালো বিষয় নিয়ে পড়ালেখা এবং সঠিক দিক নির্দেশনা। এ জন্যে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সময়োপযোগী এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। এ পর্যায়ে ক্রমে চাহিদার শীর্ষ তালিকায় এসেছে প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং বিষয়টি। বিশ্বজুড়ে চাহিদা এবং কর্মক্ষেত্র থাকায় ব্যাপকহারে এই প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা এই খাতে ক্যারিয়ার গড়তে উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করছে। এই ধারায় সফলতার পথে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশের মুর্শেদ নিজাম। এইচএসসি পাশ করে সে গত বছর জানুয়ারিতে প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং এসিসিএ বিষয়ে পড়তে ভর্তি হয়েছিল চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজে। সমপ্রতি সে এসিসিএ এফ৪ (গ্লোবাল) পরীক্ষায় বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক (৯৬%) স্কোর পেয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তিনটি বিষয়—এসিসিএ, সিএটি, এফআইএ। এটি আন্তর্জাতিক ডিগ্রি। যে কারণে পুরো বিশ্বজুড়েই শিক্ষার্থীর কর্মক্ষেত্র বিদ্যমান থাকে। এসিসিএ কোর্সটি সিএ, আইসিএমএ, সিআইএমএ, সিপিএ প্রভৃতির মত সমমানের। এসিসিএ একমাত্র কোর্স যা যেকোনো পর্যায়ে ইংল্যান্ডসহ ১৭৩টি দেশে ১০০% ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায়। দ্য অ্যাসেসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্ট্যান্টস (এসিসিএ) এবং সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্টিং টেকনিশিয়ান (সিএটি)—দুটিই প্রফেশনাল কোর্স। সিএটি হচ্ছে অ্যাকাউন্টিং কোয়ালিফিকেশন যেখানে অ্যাকাউন্টিংয়ের বেসিক থেকে শেখানো হয়। এটি করার পর দ্রুত এসিসিএ কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। এফআইএ হচ্ছে এসিসিএ’র এন্ট্রি লেভেলের স্যুট অব কোয়ালিফিকেশনস যা থেকে শিক্ষার্থীরা পূর্বের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চমত্কার কোর্স বেছে নিতে পারে। যারা একেবারেই এন্ট্রি লেভেল থেকে শুরু করতে চায় তাদের এফআইএ’র ইন্ট্রোডেক্টরি সার্টিফিকেট লেভেল থেকে শুরু করতে হবে। যাদের কিছুটা অ্যাকাউন্টিং ব্যাকগ্রাউন্ড আছে তারা এফআইএ’র ইন্টারমিডিয়েট সার্টিফিকেট লেভেল থেকে শুরু করতে পারে। যাদের অ্যাকাউন্টিংয়ের বেসিক শক্তিশালী কিন্তু গ্র্যাজুয়েশন নেই তারা এফআইএ’র ডিপ্লোমা লেভেল থেকে শুরু করতে পারে। যেকোনো শিক্ষার্থী ডিপ্লোমা লেভেল শেষ করে সরাসরি এসিসিএ’র স্কিল মডিউলে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে সিএটি সার্টিফিকেট পাবেনা। যে সব শিক্ষার্থী সিএটি সার্টিফিকেট নিতে চায় তাদের পূর্বের মতোই ৯টি বিষয় সম্পন্ন করতে হবে যার মধ্যে এফআইএ’র ইন্ট্রোডাক্টরি সার্টিফিকেট, ইন্টারমিডিয়েট সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা এবং আরও ২টি বিষয় সম্পৃক্ত আছে। এসব কোর্স সম্পর্কে আরও জানতে ফোন করুন ৮১৯১৬৬২, ০১৭৩৩০২৭৫২১৫ নম্বারে। সেকেন্ডারি বা হায়ার সেকেন্ডারি করা শিক্ষার্থীরা সিএটি কোর্সে ভর্তি হতে পারে। অন্যদিকে এইচএসসি বা ও লেভেল শেষে এফআইএ-তে ভর্তি হয়ে সিএটি সম্পন্ন করতে পারে। আবার এ-লেভেল বা যেকোনো বিভাগ থেকে ব্যচেলর ডিগ্রি করা থাকলে সরাসরি এসিসিএ ক্লাসে ভর্তি হওয়া যায়। তবে করো অনার্স, মাস্টার্স, সিএ, আইসিএমএ কোয়ালিফিকেশন থাকলে ৯টি বিষয় পর্যন্ত অব্যহতি পেতে পারে। এ দেশে কোর্সটি ব্রিটিশ কাউন্সিলে পরীক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজে এক হাজার টাকা কম ফি দিয়ে কম্পিউটার নির্ভর পরীক্ষা দেওয়া যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে এই কলেজে এফএ১, এফএ২, এমএ১, এমএ২ পরীক্ষার ফি পাঁচ হাজার টাকা এবং এফ১, ্বএফ২, এফ৩-এর ফি ছয় হাজার টাকা নেওয়া হয় যা ব্রিটিশ কাউন্সিলের চেয়ে কম। কম্পিম্পউটার নির্ভর পরীক্ষা বছরের যেকোনো সময় হতে পারে। বাংলাদেশে এই কোর্সে সর্বাধিক শিক্ষার্থী এবং সাফল্য রয়েছে চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজের। এসিসিএ কর্তৃপক্ষ গোল্ড স্ট্যাটাস অ্যাপ্রুভাল দিয়েছে এই কলেজকে। এখানে নিজস্ব সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরীক্ষার প্র্যাকটিস করানোর ফলে শিক্ষার্থীরা ফাইনাল পরীক্ষায় ভালো ফলাফল লাভ করছে। উন্নত কোচিংয়ের পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাস, সর্বশেষ সংস্করণের পাঠ্যবইসমৃদ্ধ লাইব্রেরি, নিয়মিত প্র্যাকটিস টেস্ট, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শ্রেণীকক্ষসহ বিভিন্ন সুবিধাদি এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে।