উন্নত বিশ্বের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি জাতিসংঘ মহাসচিবের

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫৫
উন্নত বিশ্বের কাছে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য সুন্দর পৃথিবী গড়ার আহবান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে একযোগে কাজ করার আহবান জানান কাতারের আমির শেখ আহমেদ আল জাবের আল সাবাহ। বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা শুরুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারা এই আহবান জানান। মঙ্গলবার কাতার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি, ইউএনএফসিসিসির নির্বাহী সেক্রেটারি ক্রিস্টিনা ফিগুয়ার্স, জাতিসংঘের জেনারেল এসেম্বলীর প্রেসিডেন্ট বুক ইয়ারমিশ, কপ ১৮-এর চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ বিন হামাদ আল-থানি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেন, কিয়োটো প্রোটোকলের সংশোধন, নতুন আইনগত চুক্তি, জলবায়ু মোকাবিলায় অর্থায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এই বৈঠকেই উন্নত দেশগুলোকে ১০০ বিলিয়ন অর্থ দেয়ার স্পষ্ট ঘোষণা এবং অভিযোজন ও প্রশমনের ব্যাপারে বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণতা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে রাখতে নতুন আইনগত চুক্তিকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, আসুন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমরা একসঙ্গে কাজ করি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আধা ঘন্টার একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনের মধ্যদিয়ে স্থানীয় সময় পৌনে চারটায় (বাংলাদেশ সময় পৌনে সাতটা) শুরু হয় জলবায়ু সম্মেলনের মন্ত্রী পর্যায়ের শীর্ষ বৈঠকের অনুষ্ঠান। চিকিত্সা বিজ্ঞানের ছাত্রী নূর আহমেদের উপস্থাপনার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের প্রামাণ্য চিত্রটি প্রদর্শন করা হয়। এ প্রামাণ্য চিত্রটি শুরু হয় সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আঘাতকারী প্রলঙ্করী স্যান্ডির মধ্যদিয়ে। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংস্থা ইউএনএফসিসিসির নির্বাহী সেক্রেটারি ক্রিস্টিনা ফিগুয়ার্স বলেন, আমাদের সামনে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের বিজ্ঞান নামক মরণাস্ত্র। এই মরণাস্ত্রের প্রভাব বিবেচনা করেই দোহায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে কিয়োটো প্রোটোকল সংশোধন, অর্থায়ন নিয়ে যাতে বৈশ্বিক উষ্ণতা দুই ডিগ্রির নীচে থাকে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোর ভিত্তি স্থাপনে। ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি বাংলাদেশের বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সংগঠন ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) বৈঠকে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার সিভিএফ বৈঠকে এ দাবি তোলেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এবং সিভিএফ ফোরামের বর্তমান চেয়ারপার্সন ড. হাছান মাহমুদ। বৈঠকে উপস্থিত ছিল মালদ্বীপ, কোস্টারিকা, গাম্বিয়া, ঘানাসহ সিভিএফ সদস্যভুক্ত অন্যান্য দেশ। হাছান মাহমুদ বলেন, জলবায়ু পারিবর্তনের কারণে পুরো বিশ্বে প্রতিবছর জিডিপির প্রবৃদ্ধি এক শতাংশ কম হচ্ছে। বাংলাদেশসহ অনুন্নত দেশগুলোতে এ হার চার শতাংশ কম হচ্ছে। এতে দেখা যাচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি যদি না থাকত তাহলে বাংলাদেশের বর্তমান প্রবৃদ্ধির হার সাড়ে ১০ শতাংশ হতে পারত। এই ক্ষতি পুষিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় অভিযোজন কর্মসূচি বাস্তবায়নে দ্রুত অর্থায়ন করার তাগিদ দেয়া হয় বৈঠকে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মেনে নিয়ে ‘লস এন্ড ডেমেজে’র জন্য বাড়তি অর্থ বরাদ্দেরও দাবি তোলা হয়। পাশাপাশি এ ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের স্থায়ী কর্মসূচি গ্রহণে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের উপর গুরত্বারোপ করতে হবে। বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ নেগোশিয়েশন টিমে সমন্বয়কারী ড. কাজী খলিকুজ্জমান আহমেদ বলেন, বাংলাদেশসহ এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর সমস্যা অনেক। সম্পদ সীমিত। এরমধ্যে নতুন করে জলবায়ু ঝুঁকির কারণে দরিদ্র দেশগুলো আরো বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।