সবার দৃষ্টি ক্রিস গেইলের দিকে। কোচ ওটিস গিবসন তো নেটের একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে গেইলের ব্যাটিং প্রাকটিসই পর্যবেক্ষণ করছিলেন। গেইলের নিষ্প্রভতা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বেশি ভাবিয়ে তুলছে। তিনটি ওয়ানডে ম্যাচের একটিতেও দেখা যায়নি গেইলের রুদ্রমূর্তি। গত ম্যাচটি মারলন স্যামুয়েলস প্রাণভমরা হয়ে বাঁচিয়েছেন। কিন্তু আজ তারা কিভাবে বাঁচবেন? বাংলাদেশ তো তাদের স্পিন দুর্গ দিয়ে কাবু করার পরিকল্পনায় ব্যস্ত। স্পিন আতংকেই বিগত ম্যাচগুলো নিয়ে ম্যাচের পুরোটা সময় জুড়ে সফরকারীরা ছিল দুশ্চিন্তায়। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য গেইলকেই বৈঠা হাতে নিতে হবে। আজ বাংলাদেশি স্পিনারদের জবাবটা দিতে চাচ্ছেন তারা। তবে ক্যারিবীয় দলের আশার কথা হচ্ছে, সুনীল নারিন ও ভিরাস্যামি পারমলের অস্ত্র দিয়ে তারাও বাংলাদেশকে ফাঁদে ফেলার মন্ত্র পড়ছে। গত ম্যাচে নারিনসহ তিন স্পিনার দিয়ে স্বাগতিকদের ‘বধ’ বানিয়েছে ঠিকই, কিন্তু স্যামুয়েলস যদি সেঞ্চুরির ইনিংসটা না খেলতেন তবে ম্যাচের ভাগ্য কি হত তা অবশ্য অজানা। আজ শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডে ম্যাচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের যেমন সিরিজ ড্র করার লক্ষ্য, তেমনি বাংলাদেশের জন্য দারুণ সম্ভাবনার এক ম্যাচ আজ।
ওয়ানডে সিরিজে ফিরে আসায় সফরকারীদের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে ঠিকই, তবে সিরিজে এখনো এগিয়ে থাকার পরও বাংলাদেশ মোটেও স্বস্তিতে নেই। সেই চাপ কমাতে কাল সারাদিন হোটেলেই বিশ্রাম নিয়েছেন খেলোয়াড়রা। পরপর দুইদিন সিরিজের বাকি দুই ম্যাচ। তাই সেই চাপকে দূরে ঠেলতে কাল যেন অনেকটা ঐচ্ছিক ছুটিই কাটালেন ক্রিকেটাররা। কেউ জিমে, কেউ হোটেল লবিতে বসে সময় কাটিয়েছেন। কোচের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী এটা হচ্ছে নিজেদের চাপ কমানোর বিশ্রাম। কিন্তু একদিন বিশ্রামে কি সব চাপ দূর হবে? কোচের ভাষ্য অনুযায়ী গত ম্যাচটি বাংলাদেশ ক্লোজ করেছিল। শুধু কিছু মিস ফিল্ডিং ও কিছু ক্যাচ মিসের কারণে ম্যাচটি হাতছাড়া হয়েছে। তাই বলে ২২৭ রান করেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চ্যালেঞ্জ দেয়ার কথা ভাবতে পারে মুশফিকরা? ভাবতেই পারে, কারণ সাকিববিহীন এই দলে এখন চার তরুণই কান্ডারির ভূমিকায়। এনামুল হক বিজয়, আবুল হাসান, সোহাগ গাজী ও মোমিনুল হক। এই চার তরুণই বাংলাদেশকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে। বাস্তবতা হচ্ছে তরুণদের পাশাপাশি মাঠে খেলার আগে ড্যারেন স্যামিকে হারাতে হবে অধিনায়ক মুশফিককে। অর্থাত্ টসটা আগে জিততে হবে। বিকালের কুয়াশাকে এড়াতে হলে অবশ্যই টস জিততে হবে মুশফিককে। নইলে গত ম্যাচের মত ক্যাচ মিস ও ফিল্ডিংও মিস হওয়াটা অস্বাভাবিক হবে না।
কুয়াশার কারণে খেলা এক ঘণ্টা এগিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও কাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এসব নিকাশ বাদ দিয়ে বাংলাদেশ দলে কাল আরেক বাঁ-হাতি স্পিনার যোগ দিয়েছে। তিনি ইলিয়াস সানি; আজ তিনি খেলবেন কিনা এ বিষয়ে কাল বিকাল পর্যন্ত টিম ম্যানেজমেন্ট কিছু জানাননি।
এখন পর্যন্ত এই সিরিজের মূল লড়াইটা স্পিনার বনাম দলের সাথে। বাংলাদেশি স্পিনারদের কাছেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ হেরেছে প্রথম দুই ম্যাচ। অথচ সেই অস্ত্র দিয়ে গত ম্যাচে স্বাগতিকদের ‘বধ’ করেছে ক্যারিবীয়রা। নতুন করে অস্ত্র পাওয়ায় সফরকারীরাও এখন স্পিনেই ঝুঁকছে। কাল নেটে নারিন ও পারমলকেই বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। কারণ আজ বাংলাদেশকে হারাতে হলে এই দুই স্পিনারকে দায়িত্ব নিতে হবে।
বাংলাদেশের সামনে সুযোগ একটি জয়; সিরিজ জয়। এই স্লোগানের সাথেই আজ মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। স্পিন ট্র্যাকে গাজী, রিয়াদ, নাঈমের সাথে যোগ হয়েছে মোমিনুল। আগে কখনো বল করেননি এই তরুণ। তবুও গত ম্যাচে যেন তিনিই ক্যারিবীয়দের দেয়াল হয়েছিলেন। তিন ওভারে রান দিয়েছেন নয়টি। আজও মুশফিক সেই একই কাজ করাতে চাইবেন। আর ব্যাটিং? তামিম, এনামুল, নাসির এবং অধিনায়ক মুশফিককে দায়িত্ব নিতে হবে। ইতিবাচক ভাবতে চাইছেন কোচ, এই ভাবনা দিয়েই নিশ্চিত করতে চান সিরিজ। অপেক্ষা শুধু কয়েক ঘণ্টার।
