ব্যর্থতা ঢেকে ধীরে ধীরে সাফল্যের চূড়ায় উঠেছেন এমন অনেকের সঙ্গে যুক্ত হলো মার্কিন গায়িকা কেটি পেরির নাম। এ বছর ‘বিলবোর্ড’-এর ‘উইমেন অফ দি ইয়ার ২০১২’ পদকটি কেড়ে নিলেন তিনি। তাকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
সাত বছর ধরে বিলবোর্ড ম্যাগাজিন সংগীত জগতের প্রতিভাবান এবং জনপ্রিয় নারী শিল্পীদের এ সম্মান দিচ্ছে। এ বছরের অনুষ্ঠানটি গত ৩০ নভেম্বর নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রক-পপ সংগীতাঙ্গনে নবাগত জনপ্রিয় তারকাদের অন্যতম কেটি পেরি। স্বতঃস্ফূর্ত সুরেলা কণ্ঠে, রক ও গসপেল সংগীতের ছোঁয়ায় এক নতুন স্বাদের পপ সংগীত উপহার দিয়েছেন তার অসংখ্য অনুরাগীদের। টেইলর সুইফট এবং বিয়োন্স নোলসের পর এবার এ সম্মানের অধিকারী হচ্ছেন কেটি পেরি।
গির্জায় গান করতে করতেই পেশাদার শিল্পী হিসেবে কেটি পেরি আত্মপ্রকাশ করেন। আসল নাম ক্যাথরিন এলিজাবেথ হাডসন। জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ায়, ১৯৮৪ সালে। ৯ বছর বয়সেই ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারার একটি গির্জায় গসপেল (যীশুর জীবন কাহিনী ও শিক্ষাসংবলিত সংগীত) শেখা শুরু করেন। শুধু গান নয়, নাচের প্রতি আগ্রহ থাকায় তখন থেকেই গানের পাশাপাশি নাচটাও আয়ত্ত করেন । ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত সংগীত চর্চা ও পরিবেশনার গণ্ডি ছিল শুধু গির্জা, স্কুল আর ক্যাম্প। কিন্তু কেটি স্বপ্ন দেখতেন সংগীতশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে। শুধু আগ্রহের কারণে বড় বোনের ক্যাসেট প্লেয়ার চুরি করে পেরি নানা ধরনের গান শুনতেন আর গলা মিলাতেন। এভাবেই সংগীত চর্চা চলতে চলতে একদিন বাবা-মা পেরির গান শুনে ফেললেন। সংগীতের প্রতি মেয়ের প্রেম বুঝতে পেরে বাবা-মা তাকে ভর্তি করিয়ে দিলেন সান্তা বারবারার ‘মিউজিক অ্যাকাডেমি অব দ্য ওয়েস্ট’-এ। তারপর থেকে এগিয়ে যাবার শুরু। ১৭ বছর বয়সে কেটির প্রথম অ্যালবাম বের হয়। অ্যালবামের নাম ‘কেটি হাডসন’। গসপেল-রক ধারা এ অ্যালবামটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। তার উপর অভিনেত্রী কেট হাডসনের নামের সঙ্গে মিল থাকায় সৃষ্টি হয় বিড়ম্বনার। অগত্যা নিজেই নিজের নাম পাল্টে রাখেন ‘কেটি পেরি’। প্রথম অ্যালবামটি সফল না হলেও পেরি হাল ছাড়েননি। তবে তাকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়। দ্বিতীয় অ্যালবামটি প্রকাশের জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ ৭ বছর। অবশেষে ২০০৮ সালে বাজারে আসে পেরির দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ওয়ান অব দ্য বয়েজ’। অ্যালবামটি বিলবোর্ড নবম স্থানে জায়গা করে নেয় এবং ‘রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা’ থেকে অ্যালবামটিকে প্লাটিনাম খেতাব লাভ করে। এ অ্যালবামেন ‘আই কিসড এ গার্ল’ গানটি শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নেয়। ব্যবসায়িক সফলতার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী সবার নজরে আসেন মিষ্টি কণ্ঠ আর অপূর্ব মুখশ্রীর কেটি পেরি। ব্যস্ত হয়ে পড়েন সংগীত জগতে। ২০০৯ সাল পর্যন্ত ‘হ্যালো কেটি পেরি’ শীর্ষক সংগীত সফরের আওতায় তিনি দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ান। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ফোর্বস ম্যাগাজিনের শীর্ষ আয়ের নারী শিল্পীর তালিকায় পেরি তৃতীয় অবস্থানে আসেন। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই তার সিঙ্গেল অ্যালবাম বিক্রি হয় ৪৮ মিলিয়ন। এর মধ্যে কয়েকটি হিট অ্যালবাম হচ্ছে- ‘ফায়ারওয়ার্ক’, ‘ক্যালিফোর্নিয়া গার্লস’, ‘ইটি’ এবং ‘হট অ্যান্ড কোল্ড’। এ ছাড়াও তার আগের বছর ‘টিনএজ ড্রিমস’ অ্যালবাম ব্যাপক আলোড়ন তোলে।
বিলবোর্ড হট হান্ড্রেডের ৫৩ বছরের ইতিহাসে কোনো নারী সংগীত শিল্পীর ক্ষেত্রে যা অবশ্যই প্রথম। তখন সংগীত বোদ্ধারা বলেছিলেন কেটি পেরি অনেকদূর যাবে। তাদের সেই ভবিষ্যত্ বাণী সত্য হলো। প্রতিভাবান সংগীত শিল্পী কেটি পেরি ২০০৯ সালে ‘শ্রেষ্ঠ আন্তর্জাতিক নবাগত সংগীত শিল্পী’ হিসেবে ব্রিটসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এ বছর বিলবোর্ড সংগীত ম্যাগাজিনের ২০১২ সালের ‘উইমেন অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তার এগিয়ে যাওয়া আরও সহজ হলো।
