চিকিত্সাসেবায় জীবন গড়তে

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৩০
উত্তরাতে ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের। কর্তৃপক্ষ শুরুতেই পরিকল্পনা নেন একে নিজস্ব ভিত্তির উপর দার করানোর। ফলে ২০০৫ সালে হযরত শাহজালাল আন্তজার্তিক বিমান বন্দর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে তুরাগ নদীর দক্ষিণ পাড়ে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের পাশে বিশাল আয়তনের ৫ একর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয় এর নিজস্ব আধুনিক একাডেমিক ও আবাসিক ভবন এবং হাসপাতাল। এরই মাঝে ৩টি ব্যাচের প্রায় ১৫০ জন ডাক্তার জনসেবায় ছড়িয়ে পরেছেন দেশের আনাচে-কানাচে। ইস্ট ওয়েস্ট এখন দেশ সেরা প্রাইভেট মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে অন্যতম। যা আলিম ফাউন্ডেশন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। আলিম ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, যা ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন এবং মৃত কানিজ তানিয়া সুইটির দেশ ও মানব কল্যাণে আত্মনিয়োগ তথা ত্যাগের ফসল। তবে এখানেই শেষ নয়, সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এর পর ক্রমান্বয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আপডেট ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল, ইস্ট ওয়েস্ট নার্সিং কলেজ এবং ইস্ট ওয়েস্ট নার্সিং ইনস্টিটিউটের মতো অনন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। হাসপাতালে মর্নিং শিফট সেরে বের হচ্ছিলেন তরুণ চিকিত্সকদের কয়েকজন। তারা বললেন, ‘আমরা পেয়েছি বিশাল আয়তনের কলেজ ভবনে সুপ্রশস্ত লাইব্রেরি, দেশি-বিদেশি মেডিকেল বইয়ের সমাহার, প্রশস্ত ক্লাস রুম, অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ল্যাবরেটরি। প্রত্যেক শ্রেণীকক্ষে অত্যাধুনিক মাল্টিমিডিয়া ল্যাপটপ, ওভার হেড প্রজেক্টরসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা এবং বৃহত্ আয়তনের ডিস্কাশন হল, ছেলে-মেয়েদের পৃথক কমন রুম ছাড়াও নৈসর্গিক পরিবেশে বেড়ে উঠার মতো সবুজ শ্যামলে ঘেরা ক্যাম্পাস, যেটা ঢাকার কোনো মেডিকেল কলেজেই নেই।’ তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলো তাদের হাসপাতালের কী অবস্থা? তারা বললেন, ‘আমাদের হাসপাতালটি ৫৫০ বেডের, যেখানে গড়ে প্রতিদিন বহিঃবিভাগে ৪৫০-৫০০ রোগী ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করে এবং হাসপাতালের অভ্যন্তরে প্রতিদিন ৩০০-৩৫০ রোগী ভর্তি থাকে। মেডিকেলের চালু প্রায় সকল উপবিভাগে প্রতিনিয়তই চলছে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সেবা ও জটিল বিভিন্ন অস্ত্রোপচার। প্রতিদিন ১৫-২০টি অপারেশন হচ্ছে এবং অত্যাধুনিক ৬টি অস্ত্রোপচার কক্ষ চালুসহ আছে, আইসিইউ, সিসিইউ, এনআইসিইউ ও ডায়ালাইসিসসহ সব ধরনের অত্যাধুনিক সার্ভিস।’ কলেজের শিক্ষা ও সাফল্য প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, ‘এখানে প্রতিটি বিভাগে কমপক্ষে ৪ জন পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করা শিক্ষকসহ ১০-১৫ জনের ফ্যাকাল্টি মেম্বার নিয়মিত কাজ করছেন। আমাদের শিক্ষার্থীদের পাসের হার অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি এবং শিক্ষার মানও ভালো। এখানে ৮৫ জন ছাত্রছাত্রীর জন্য নিয়োজিত আছেন ১৩৮ জন নিয়মিত শিক্ষক। খণ্ডকালীন কোনো শিক্ষক এ প্রতিষ্ঠানে নেই।’ হাতে কলমে শিক্ষা প্রসঙ্গে তারা বলেন, ‘অত্র এলাকার বাইরে চালু আছে আমাদের সাব সেন্টার, যেখানে গ্রামের সাধারণ মানুষ অথবা কল-কারখানার শ্রমিকেরা প্রায় বিনা পয়সায় স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে এবং তাদের একটি অংশ মেডিকেল কলেজে রেফার হয়ে আসায় আমরা প্রত্যক্ষভাবে শেখার অনেক সুযোগ পেয়েছি। এ ছাড়াও প্রতিমাসে কলেজ থেকে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয় বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে, যা ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে হয়। এ প্রতিষ্ঠানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আনাগোনাও চোখে পড়ার মতো। বিদেশি লিনাকে দেখে বুঝার উপায় নেই যে, সে একজন কাশ্মীরের মেয়ে। পুরোদস্তুর বাংলাভাষী এবং বাঙালি ছেলেমেয়েদের মতোই তার বেশভূষা আর চলাফেরা। পরে তার কাছেই জানা গেল যে, বাংলাদেশকে তার ভীষণ আপন মনে হয়। সেজন্য কৃষ্টি কালচার আর একই ধর্মীয় আদর্শের কারণে সে বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে মেডিকেলে দীক্ষা নিয়ে চিকিত্সক হবেন বলে। এ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আরও জানতে যোগাযোগ করতে পারেন ০১৭১১৪০১২৩০ ও ৮৯৮২১২৩-২৪ নম্বরে। এই কলেজের শিক্ষার মান সম্পর্কে লিনা বলেন, ‘ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ ফেম অথবা হু স্বীকৃত বলেই পড়াশেষ করে হয়তো ইউরোপ বা ইউকেতে তার লেখাপড়ার সুযোগ থাকবে। এ ছাড়াও কলেজটির চেয়ারম্যান ডা. মোয়াজ্জেম স্যারের রয়েছে আর্ন্তজাতিক পরিচয়, যোগাযোগ তথা সম্পর্ক। বিশেষ করে জাপানের সাথে। সে ক্ষেত্রে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনের জন্য জাপানকেও বেছে নেওয়া সম্ভব। এরই মধ্যে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ২৫ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।’