পড়ার বিষয় ব্যবসায় প্রশাসন

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৩২
বাংলাদেশকে বাস্তবমুখী উচ্চশিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে মুক্ত করার উদ্দেশে অপ্রতুল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন সরকার। এর ধারাবাহিকতায় দেশে প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৯২ এবং পরবর্তীতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ পাস হয়। বিভিন্ন শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও শিক্ষাবিদ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের খ্যাতনামা অধ্যাপক মরহুম আলহাজ্ব ড. এবিএম মফিজুল ইসলাম পাটোয়ারী ১৯৯৫ সালের ৭ এপ্রিল প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। আইন, ব্যবসায় প্রশাসন, সমাজ বিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের মোট ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে প্রায় ১০,০০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী পাস করে বেরিয়ে গেছে। এ দেশের অর্থনীতির প্রতিটি শাখায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান রেখে যাচ্ছে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। গুণগত, মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ, উপযুক্ত, আর্দশ ও দেশপ্রেমিক মানব সম্পদ তৈরিতে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রশংসার দাবিদার। তারা বিসিএস প্রশাসনসহ দেশের ভেতরে ও বাহিরে বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন ব্যাংক, বীমা, পুঁজিবাজার, রিয়েল এস্টেট ও মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিসহ ব্যবসায় বাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছে। বেকারত্বের অভিশাপের এ বাংলাদেশে ব্যবসায় অনুষদ থেকে পাসকৃত শিক্ষার্থীদেরকে বেকারত্বের স্বাদ ভোগ করতে হয় না। এর প্রধান কারণ হলো ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রতিটি কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে সুপরিকল্পিত, সুশৃঙ্খল, তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দৃষ্টি ভঙ্গিতে। ব্যবসায় প্রশাসন শিক্ষা যে কারণে এত সফল তা হলো—ইংরেজি মাধ্যমে পাঠদান, পর্যাপ্ত কেসস্টাডির ব্যবস্থা, চলমান বিষয়ের উপর অ্যাসাইনমেন্ট, ক্লাস পার্টিসিপেশনের ব্যবস্থা, মিডটার্ম ও ফাইনাল পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতির ব্যবস্থা, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া, কোর্স শিক্ষকদের ক্লোজ মনিটরিং, ট্রাইমেস্টার পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম, লাইব্রেরি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা, ওয়ার্কশপ, সেমিনার, সিম্পুজিয়ামে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা, স্টাডি ট্যুর ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিটের ব্যবস্থা, ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা, মৌখিক পরীক্ষায় উপযোগী করে তোলা, ডিবেট, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে উদ্ধুদ্ধ করা ইত্যাদি। এ ছাড়া মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয়ের তত্ত্বাবধানে এ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ সদস্যদের সমন্বয়ে অত্যাধুনিক ও যুগোপযোগী বিবিএ এবং এমবিএ প্রোগামের সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী নিম্নোক্ত মেজর সাবজেক্টে পড়াশোনা করতে পারছে—মেজর ইন ম্যানেজমেন্ট, মেজর ইন এইচআরএম, মেজর ইন অ্যাকাউন্টিং ইন ফরমেশন সিস্টেম, মেজর ইন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম, মেজর ইন ফিন্যান্স, মেজর ইন ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট, মেজর ইন মার্কেটিং। এ বিষয়গুলো সম্পর্কে আরও জানতে যোগাযোগ করতে পারেন ৯৬১৩৮৬৮, ০১৬১১৩৪৮৩৪৬ এই নম্বরগুলোতে। এ পর্যন্ত ৪ বছর মেয়াদি বিবিএ দিবাকালীন প্রোগ্রামের ৩৮টি ব্যাচ, সন্ধ্যাকালীন প্রোগ্রামের ২২টি ব্যাচ, ১ বছর মেয়াদি এমবিএ প্রোগ্রামের ২৫টি ব্যাচ এবং ২ বছর মেয়াদি এমবিএ প্রোগ্রামের ৩২টি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা পাস করে বেরিয়ে গেছে। বর্তমানে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে প্রায় ১৮০০ শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত রয়েছে। এমবিএ পাসকৃত শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে এমবিএ এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়েছে এবং প্রতিবছর এ অ্যাসোসিয়েশন বিভিন্ন ধরনের শিক্ষণীয় ও আনন্দঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। বর্তমানে ব্যবসায় অনুষদে ৪ বছর মেয়াদি বিবিএ দিবাকালীন ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রাম, ১ বছর মেয়াদি এমবিএ এবং ২ বছর মেয়াদি ইএমবিএ প্রোগ্রাম চালু রয়েছে এবং শিক্ষার্থী ভর্তি চলছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঢাকার গ্রিনরোডে একটি ১২তলা ভবনে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করেছে। উক্ত ভবনটি সম্পূর্ণরূপে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত। সুবিশাল এই ভবনটি অত্যন্ত সুসজ্জিত। এখানে লিফট, অটোমেটিক জেনারেটর, প্রতিটি ক্লাসরুমে এসি, খেলাধুলার সরঞ্জামসহ সুবিশাল কমনরুম ও ক্যান্টিন, সুবিশাল লাইব্রেরি, হলরুম, নামাজ ঘর, কম্পিউটার ল্যাব ইত্যাদি সুবিধা রয়েছে। ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায় লাইব্রেরিতে বিপুল সংখ্যক বই আছে। এ ছাড়াও পুরো ক্যাম্পাস ওয়াইফাই হওয়ায় লাইব্রেরিতে বসেও রিসার্চ করা যায়। লাইব্রেরি কার্ডের মাধ্যমে বাসায় বই নেওয়া যায়। বেকারত্ব দূরীকরণে ও মানব মূলধন তৈরিতে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বদ্ধপরিকর। যোগাযোগ :ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ৬৬ গ্রিনরোড এবং বাড়ি-০৪, সড়ক-০১, ব্লক-এফ, বনানী, ঢাকা।