সাংস্কৃতিক জোটের দেশজুড়ে বিজয় উত্সব শুরু

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৭
একাত্তরের ঘাতক জামায়াত-শিবির গোষ্ঠীকে প্রতিহত এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে নব সংগ্রামের ডাক দিলেন দেশের সাংস্কৃতিক কর্মীরা। গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিজয় উত্সব-২০১২-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে শহীদদের স্বপ্নপূরণের নতুন সংগ্রামে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ‘রুখে দাঁড়াও পরাজিতের হুঙ্কার/ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই এবার’ - এ শ্লোগান নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হলো সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের এ উত্সব। বিকালে লাল-সবুজ বেলুন আর শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে উত্সবের উদ্বোধন করেন একাত্তরের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীযোদ্ধারা। এগারো দিনের এ উত্সব রাজধানীর ১৬টি মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে। ২৮ ডিসেম্বর রাজশাহী ও ২৯ ডিসেম্বর কক্সবাজারের রামুতে এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। শহীদ মিনার বেদীতে সকল মুক্তিসংগ্রামে শহীদদের স্মৃতির প্রতি পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এরপর পুরো শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ উদ্বেলিত হলো জাতীয় সঙ্গীতের সুমধুর ধ্বনিতে। উত্সবের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ক্রমেই শানিত ও হিংস হয়ে উঠছে। বিগত অক্টোবর মাসের উপান্তে রামু ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে মিথ্যা উস্কানি দিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে যেভাবে বৌদ্ধমন্দির ধ্বংস করা হয়েছে, তা জাতি হিসেবে আমাদের কলংকিত করেছে। তাই সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রামের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির মূল উত্পাটনের। সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মধ্য দিয়ে শুভ সূচনা হোক এই নবসংগ্রামের।’ এরপর গণসঙ্গীত সংগঠন সম্বনয় পরিষদের শিল্পীরা সম্মেলক কণ্ঠে পরিবেশন করেন হেমাঙ্গ বিশ্বাসের ‘ভয় কি মরণের/রাখিতে সন্তানে।’ এরপর স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। সভাপতিত্ব করেন জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ। একাত্তরের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীযোদ্ধাদের মধ্যে ছিলেন কামাল লোহানী, সৈয়দ হাসান ইমাম, মনোরঞ্জন ঘোষাল, ফকির আলমগীর, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, তিমির নন্দী, আশরাফুল আলম প্রমুখ। উদ্বোধকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন কামাল লোহানী ও আশরাফুল আলম। কামাল লোহানী বলেন, ‘জনমত গঠনের মধ্য দিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছিলাম। আজ আবার আমাদের জনমত গঠনের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হবে।’ আরো বক্তব্য রাখেন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, আসাদুজ্জামান নূর, গোলাম কুদ্দুছ, লিয়াকত আলী লাকী, ফকির আলমগীর, ড. মুহাম্মদ সামাদ ও মান্নান হীরা। পরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীরা একাত্তরের উত্তাল দিনের সঙ্গীত পরিবেশন করেন। ‘বিজয়ে পার্বণে’ উত্সবের উদ্বোধন সম্প্রীতি ও মিলনের আহ্বান জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে উদ্বোধন করা হলো ‘বিজয়ে পার্বণে’ উত্সবের। রক্ত লাল পোশাকে পুরো উত্সবস্থলকে রাঙিয়ে তুলেছিলেন শিক্ষার্থীরা। হাতে লাল সবুজ পতাকা। বিজয়ের আনন্দে উদ্বেল হয়ে উত্সবে মেতেছিলেন সবাই। আগামী ১৫ থেকে ১৭ ডিসেম্বর এই মাঠে আয়োজন করা হবে উত্সবের। বিজয়দীপ জ্বালিয়ে উদ্বোধন করা হয় এ উত্সবের। উদ্বোধনী পর্বে ১৯৭১ জন শিক্ষার্থী সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশন করেন জাতীয় সঙ্গীত, ১৬ জন মুক্তিযোদ্ধা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন জাতীয় পতাকা। নবগঠিত সংগঠন ‘উেস বাংলাদেশ’ আসছে ডিসেম্বর মাসকে উত্সবের মাস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস, আবার এ মাসেই নবান্ন ও পৌষ পার্বণের ঘনঘটা। তাই উেস বাংলাদেশ এই উত্সবের নাম দিয়েছে ‘বিজয়ে পার্বণে’। রঘু রায়ের আলোকচিত্র প্রদর্শনী বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্ এবং ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ভারতীয় হাইকমিশন, ঢাকার আয়োজনে গতকাল শুক্রবার থেকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভারতীয় আলোকচিত্রী রঘু রায়ের ‘বাংলাদেশ :দ্যা প্রাইস অব ফ্রিডম’ শীর্ষক একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে প্রধান অতিথি থেকে দশদিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মো. আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরন এবং বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আলোকচিত্রী রঘু রায়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টসের পরিচালক সুবীর চৌধুরী। প্রদর্শনীতে মোট আলোকচিত্রের সংখ্যা ৫১টি। প্রদর্শনী আগামী ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তোলা ছবিসমূহ প্রদর্শিত হবে।