চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ জানুয়ারি

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪৪
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি প্রকাশ করা হচ্ছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। এ লক্ষ্যে ২রা জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হচ্ছে। দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য দরখাস্ত দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ জানুয়ারি। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, আগামী ৩১ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। এ সময়ের পর বাড়ি বাড়ি গিয়ে আর হালনাগাদ করা হবে না। এরপরও কেউ ভোটার হতে হলে কমিশনের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে নিবন্ধন করতে হবে। চলমান ভোটার হালনাগাদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে প্রায় ৬৭ লাখ নতুন ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে ইসি। আগামী ৭ দিনের এই চলমান কার্যক্রমে নতুন করে আরো প্রায় ৩ লাখ ভোটার নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যমান ভোটার তালিকা থেকে ইতিমধ্যে মৃত ভোটার কর্তন করা হয়েছে ৬ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৮ জন। এছাড়াও ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯৫৫টি অবিতরণকৃত ভোটারের পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী আগামী বছরের ২৬ অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে বিতর্কমুক্ত করতে কমিশন আগেভাগেই ভোটার তালিকা চূড়ান্ত কাজ সম্পন্ন করেছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশোধন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য দাখিলকৃত দরখাস্ত সমূহের নিষ্পত্তি করা হবে ২২ জানুয়ারি। আর দরখাস্তের উপর গৃহীত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে ২৬ জানুয়ারি। আগামী ১৫ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে চলমান ভোটার তালিকার হালনাগাদ কার্যক্রম। গত ১০ মার্চ ৭০ লাখ নতুন ভোটারের টার্গেট নিয়ে চার ধাপে দেশব্যাপী ভোটার তালিকা হালনাগাদ কাজ শুরু হয়। যাদের বয়স ২০১৩ সালের ১লা জানুয়ারি পর্যন্ত ১৮ বছর পূর্ণ হবে তাদের কাছ থেকে ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে আইনানুযায়ী আগামী ২০১৩ সালের ২রা জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে। সর্বশেষ তথ্যমতে, ভোটার তালিকার হালনাগাদ কার্যক্রমে ১৫৩টি টিম যা প্রতিটিতে ৯টি করে মোট ১ হাজার ৩৭৭টি ল্যাপটপ নিয়ে এই কার্যক্রম চলছে। এ জন্য এখন থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ হাজার ভোটার নিবন্ধন করা হবে। সম্পন্নকৃত উপজেলাগুলোয় নতুন ভোটার রেজিস্ট্রেশনের হার ৮ শতাংশ। বর্তমানে ২৫টি উপজেলায় ভোটার নিবন্ধনের কাজ চলছে। এখনো বাকি রয়েছে ২৫টি উপজেলা/থানার কার্যক্রম। এএফআইএস (অটোমেটেড ফিঙ্গার প্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম) ম্যাচিং পদ্ধতিতে ভোটার পুনঃনিবন্ধন করা হয়েছে ৪ লাখ ১৯ হাজার ২১২ জন। ভোটার স্থানান্তর হয়েছে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৩১২ জন। মাঠ পর্যায়ের ডাটা পাওয়া গেছে ৪৫১টি উপজেলা/থানার। প্রাপ্ত ডাটা কেন্দ্রীয় সার্ভারে আপলোড সম্পন্ন করা হয়েছে ৩৭৬টি উপজেলা/থানার। ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব সিরাজুল ইসলাম জানান, বর্তমানে দেশে ৮ কোটি ৬৪ লাখ ভোটার রয়েছে। বিগত দুই বছর কমিশন হালনাগাদ কার্যক্রম চালাতে পারেনি। একারণে চলতি কার্যক্রমে ইসি’র পরিকল্পনা অনুযায়ী শতকরা ৭ দশমিক ৫ ভাগ হারে বৃদ্ধি পেয়ে ৭০ লাখ নতুন ভোটার হওয়ার কথা। সেই লক্ষ্য নিয়ে ভোটার তালিকার হালনাগাদ কার্যক্রম চলছে। বরাদ্দ টাকা না পাওয়ার অভিযোগ :ভোটার তালিকার হালনাগাদ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যথাসময়ে বরাদ্দপ্রাপ্ত টাকা না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন অঞ্চলের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা টাকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। সারাদেশে হালনাগাদ কাজের ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। অথচ মাঠ পর্যায়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করা তথ্য সংগ্রহকারী এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের অধিকাংশের টাকা এখনও বকেয়া রয়েছে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় বকেয়ার পরিমাণ ৫ লাখ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত। মাঠ কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন টাকা বকেয়া থাকায় তাদের হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। অধিকাংশ তথ্য সংগ্রহকারী শিক্ষক। প্রতি ভোটারের তথ্য সংগ্রহে তথ্য সংগ্রহকারীদের দেয়া হয় ২০ টাকা। সুপারভাইজাররা ভোটার পিছু পায় ৪ টাকা। প্রতিটি ভোটারের ডাটা এন্ট্রির জন্য অপারেটররা পায় ২০ টাকা। এ বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব আরো বলেন, তৃতীয় ধাপের টাকা ছাড় দেয়া হয়েছে। আশা করি টাকা নিয়ে কোন সমস্যা হবে না। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, ভোটার তালিকার হালনাগাদ কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে চলমান হালনাগাদে দ্বৈত ভোটার হলেও ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। তবে যারা দ্বৈত ভোটার হচ্ছেন ক্রস ম্যাচিংয়ে তারা ধরা পড়ে যাচ্ছেন। এসব ভোটারদের ক্ষেত্রে একটি রেখে বাকিগুলো বাতিল করা হবে। দ্বৈত ভোটারদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।