আয়েশা আক্তার

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:০৭
একজন প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই তার দুটি হাত নেই। হাত না থাকলেও মনের জোর তার অনেক বেশি। একজন প্রতিবন্ধী মেয়ে হয়েও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে চান তিনি। আর তাই তিনি এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে খাতায় উত্তর লিখেছেন পা দিয়েই। আর সেই কারণেই এবার তিনি পেয়েছেন সিঙ্গার-চ্যানেল আই সাহসিকতা পুরস্কার। সাঘাটা উপজেলার যোগীপাড়া গ্রামের দিনমজুর আবদুল লতিফের মেয়ে। চার বোনের মধ্যে আয়েশা তৃতীয়। জন্ম থেকেই তার দু’হাত নেই। একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি তার বাবা আবদুল লতিফ দিনমজুরের কাজ করে অতিকষ্টে সংসার চালান। অভাব-অনটনের কারণে অন্যান্য বোনেরা পড়াশোনা করতে পারেনি। ছোট থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছিল আয়েশার। শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও মনের জোর তার বাধ মানেনি। ভর্তি হন স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পা দিয়েই তিনি খাতায় লেখেন। ৫ম শ্রেণী পাস করার পর তার বাবা-মা তাকে বিয়ে দিতে চান। কিন্তু গ্রামের এক শিক্ষিকা সুলতানা শামিম আরা তাকে বাল্যবিয়ের কবল থেকে রক্ষা করে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি করে দেন কচুয়াহাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। তখন থেকে পুরোদমে পড়াশোনা চালিয়ে যান আয়েশা। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহায়তায় তিনি এসএসসি (মানবিক) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। কচুয়াহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, আয়েশা আক্তারের দু’হাত না থাকলেও পা দিয়েই তিনি সুন্দরভাবে লিখতে পারেন। বিদ্যালয়ের প্রতিটি পরীক্ষাতেই তিনি পা দিয়ে লিখেই উত্তীর্ণ হয়েছেন। সংসারের অন্যান্য কাজও তিনি পা দিয়েই করতে পারেন। আয়েশা আক্তার জানান, প্রতিবন্ধী হলেও তিনি সমাজের বোঝা হয়ে বাঁচতে চান না। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তিনি সমাজের অন্যান্য মানুষের মতো বাঁচতে চান। এ জন্য তিনি চান সরকারি-বেসরকারি সহায়তা। জন্ম থেকেই তার দুটি হাত না থাকলেও মনের জোরের কমতি ছিল না কখনও। তাই তো এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে খাতায় উত্তর লিখেছেন পা দিয়ে। পরীক্ষায় পাসও করেছে বি-গ্রেডে। আয়েশা আক্তার জানান, তার এই ফলাফলে তিনি সন্তুষ্ট। প্রতিবন্ধী হলেও তিনি সমাজের বোঝা হয়ে বাঁচতে চান না। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তিনি সমাজের অন্যান্য মানুষের মতো বাঁচতে চান। কচুয়াহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, আয়েশা আক্তারের দু’হাত না থাকলেও পা দিয়েই তিনি সুন্দরভাবে লিখতে পারেন। বিদ্যালয়ের প্রতিটি পরীক্ষায়ও তিনি পা দিয়ে লিখেই উত্তীর্ণ হয়েছেন। সংসারের অন্যান্য কাজও তিনি পা দিয়ে করতে পারেন। ছোট থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার খুব আগ্রহ থাকায় দিনমজুর বাবা আয়েশাকে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেন। মেঝেতেই বসেই তিনি ক্লাস করতেন। ক্লাসের লেখা ও পরীক্ষার খাতায় লিখতেন পা দিয়েই। বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করা শিক্ষিকা সুলতানা শামীম আরাই আয়েশাকে কচুয়াহাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি করিয়ে দেন। তারপর থেকেই আয়েশা পুরো দমে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ দেন। নিজেকে একজন সফল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তার এই সাহসিকতা পুরো জাতিকে অবাক করে দেয় বিবেককে নাড়িয়ে হাঁটতে শেখায় নতুন সম্ভাবনার দিকে।