এ দেশের যেসব পরিচিত মানুষকে সচরাচর আমরা দেখতে পাই তাদের আড়ালেও সাধারণ মানুষের বীরত্ব আছে। এ দেশের যা কিছু অর্জন তার পেছনে সাধারণ মানুষের প্রভাব অনেক বেশি। সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষাতেই গড়ে উঠে প্রতিটি উন্নয়নের খণ্ড। আপনাদের এবার শোনাবো তেমনই একজন সাধারণ মানুষের গল্প। তার নাম লাকী আক্তার। অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তিনি এবার নির্ভীক কিংবদন্তী পুরস্কারটি জিতে নিয়েছেন।
মনে করুন চোখের সামনে খুন হতে দেখছেন, কী করবেন আপনি? অনেকেই হয়তো ভয়ে আগেই পালাবেন, কেউ কেউ সাহস করে প্রতিবাদ করবেন, কেউবা আবার নিজ থেকেই এগিয়ে যাবেন, কিন্তু ক’জন আছেন যারা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও বাঁচাতে যাবেন মানুষটিকে? হ্যাঁ, অনেকেই আছেন এমন নির্ভীক মানুষ, একই সাথে সাহসী, যারা সবকিছুকে জয় করে ঝাঁপিয়ে পড়েন অন্যের বিপদে, সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। নিজের জীবনকেও কতটা ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন সেটি একটিবারও কল্পনা করেন না। এ বছর সিঙ্গার-চ্যানেল আই সাহসিকতা পুরস্কার বিজয়ী লাকী আক্তার তেমনি একজন। চোখের সামনে খুন হতে দেখছিলেন একজন গর্ভবতী মহিলাকে। তিনি তখন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে থাকেন, ২০০৭ সালের কথা, এক সন্ধ্যায় দেখলেন প্রতিবেশী এক মহিলার উপর চড়াও হয়েছেন একজন, সাথে যারা ছিল তারা দৌড়ে পালাল। থেকে গেলেন লাকী। উদ্ধার করলেন মহিলাটিকে, গর্ভের বাচ্চাটা মারা গেলেও তিনি বাঁচাতে সমর্থ হলেন মহিলাটিকে। তখনই তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করান, তার এই অসীম সাহসিকতার জন্য নির্ভীক কিংবদন্তী ক্যাটাগরিতে তিনি পেয়েছেন এই পুরস্কার। সাহসী মানুষেরা আসলে স্বীকৃতির কথা ভাবেন না। তবুও দেশের প্রয়োজনে সাহসীদের স্বীকৃতি প্রয়োজন। কারণ সাহসীরা স্বীকৃতি পেলে দেশে ভালো মানুষের সংখ্যা আরও বাড়বে। কিংবদন্তীর মতো একটি মহত্ উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য সিঙ্গার ও চ্যানেল আইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার সাথে আসলেই এই অনুষ্ঠানের দারুণ একটা মিল আছে!
