ব্রিটিশ রাজপরিবারে আসতে চলেছে নতুন সদস্য—রাজকুমার উইলিয়াম আর যুবরানি কেটের প্রথম সন্তান। সেন্ট জেমস প্যালেস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে—ডাচেস অব কেমব্রিজ অন্তঃসত্তা। কিছু শারীরিক সমস্যা নিয়ে আপাতত লন্ডনের একটি হাসপাতালে তিনি ভর্তি।
প্রায় উনিশ মাস ধরে রাজবধূ কেট-এর প্রতি পদক্ষেপ নিয়ে চুলচেরা হিসাব চলেছে—যদি ‘সুখবর’-এর সামান্যতম আভাস মেলে। অবশেষে মিলল। আভাসটাভাস নয়—একেবারে ঘোষণা। রাজপরিবারের ‘সরকারি’ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই অভিনন্দনবার্তা জমা পড়তে শুরু করেছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে। ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত আইন সংশোধনের পর এটাই প্রথম কোনো নবজাতকের আগমন। সে দিক থেকেও এই ঘটনা বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
গত বছর ২৯ এপ্রিল ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবে-তে বিয়ে সারেন ব্রিটিশ প্রিন্স উইলিয়াম-কেট। প্রায় সেই দিন থেকেই জল্পনা শুরু হয়ে যায় তাদের পরিবার-পরিকল্পনা নিয়ে। তখন থেকেই কার্যত নজরদারি চলেছে কেটের ওপর—তিনি সন্তানসম্ভবা কি না তার আভাস পেতে। সিঙ্গাপুরে গত সেপ্টেম্বরে এক অনুষ্ঠানে শ্যাম্পেনের পরিবর্তে শুধু ঠান্ডা জল খেয়েছিলেন কেট—শোরগোল পড়ে গিয়েছিল তা নিয়ে। এ সত্ত্বেও রাজপরিবারের ঘোষণার আগে সামান্য আঁচও পাওয়া যায়নি এ ব্যাপারে। গত সপ্তাহে নিজের পুরনো স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে বেশ চুটিয়ে হকি খেলতে দেখা যায় কেটকে। তবে নতুন অতিথি আসাটা কিছুটা দুশ্চিন্তা দিয়েই শুরু হলো।
রাজপরিবারের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘তীব্র ব্যথার কারণে কেটকে মধ্য-লন্ডনের কিং অ্যাডওয়ার্ড সেভেন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল কেটকে। এই সমস্যায় সকালের দিকে দুর্বল বোধ করেন গর্ভবতী নারী। বিশেষজ্ঞের মতে গর্ভাবস্থায় এই সমস্যার অর্থ হলো—যমজ সন্তানের উপস্থিতি। তবে কি রাজপরিবারে জোড়া সুখবর? এত দূর অবশ্য এখনই জানা যাচ্ছে না। সমস্যার জেরে আপাতত বেশ কিছু দিন হাসপাতালে থাকতে হবে কেটকে। উইলিয়ামও এই মুহূর্তে স্ত্রীর পাশেই আছেন বলে জানিয়েছে রাজপরিবার।
আরও একটা কারণে নতুন সদস্যকে নিয়ে উত্সাহ তুঙ্গে। সেটা হলো, ব্রিটেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত নয়া আইন। এ বছরই ব্রিটেনসহ ১৫টি কমনওয়েলথ দেশের নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সিংহাসনের অধিকারে নারী-পুরুষ সমান। এই অবস্থায় যদি কন্যা-সন্তানের জন্ম দেন কেট, তা হলে ব্রিটেনের ইতিহাসে সেটা এক বিপ্লব হবে। কারণ সে ক্ষেত্রে রাজকুমার চার্লস এবং উইলিয়ামের পর সিংহাসনের তৃতীয় দাবিদার হবে ওই নবজাতিকাই। ফলে সিংহাসনের দৌড়ে সে পিছনে ফেলে দেবে উইলিয়ামের ভাই রাজকুমার হ্যারিকেও। তবে এই সব কিছু ছাপিয়ে আপাতত আসন্ন অতিথির নিরাপদ আগমন কামনাতেই ব্যস্ত সবাই।
প্রিন্স উইলিয়াম-বধূর মা হওয়ার সম্ভাবনার খবরে যুক্তরাজ্যের রাজপরিবার ও কেটের পরিবার উল্লসিত। এ নিয়ে এক টুইটার বার্তায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনও।
