ভারতে ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হবেন রাহুল। এমন একটি ধারণাকে অনিবার্য পরিণতি ধরে যারা এগোচ্ছেন, ‘দি ইকনোমিস্ট’-এর ব্যাখ্যা এগিয়েছে ঠিক তার উল্টো স্রোতে। রাহুল গান্ধী নন, আগামী লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হতে পারেন ভারতের বর্তমান অর্থমন্ত্রী পালানিয়াপ্পন চিদম্বরম।
ব্রিটিশ ম্যাগাজিন ‘দি ইকনোমিস্ট’-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেস এবং বিজেপি-র অভ্যন্তরীণ সমীকরণ যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে শেষ পর্যন্ত ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রিত্বের লড়াইয়ে বিজেপির নরেন্দ্র মোদির বিপক্ষে দেখা যেতে পারে চিদম্বরমকে। চিদম্বরমের পক্ষে একাধিক যুক্তি উত্থাপন করেও ম্যাগাজিনটির ইঙ্গিত, এ বিষয়ে শেষ কথা বলবেন সোনিয়া গান্ধীই।
নেহ্রু-গান্ধী পরিবারের ‘উত্তরাধিকার’ যে রাজীব-তনয় রাহুলের হাতেই ভারতের আগামী দিনের শাসনভার সমর্পিত হবে, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয়ী নন কংগ্রেসের কোনো মহলের নেতাই। ঘটনা অন্যখানে, রাহুল নাকি নিজেই এখনো সরকারের গুরুদায়িত্ব নিতে রাজি নন। তার মনোযোগ সংগঠনে। প্রতিবেদনটিতে লেখা হয়েছে, ‘ভারতীয় রাজনীতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগ দেয়ার জন্য রাহুল কবে সাহসী হবেন, সেটা তার সমর্থকরাও এখন বলতে পারছেন না।’ ইকনোমিস্ট আরো বলেছে, এর ফলে নেপথ্যে থেকে সরকার পরিচালনার কাজে বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প খুঁজতে হবে সোনিয়াকে। আর সেখানেই পত্রিকাটির বিশ্লেষণে অগ্রাধিকার পাচ্ছেন ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। বলা হয়েছে, অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পরই সোনিয়ার কাছে চিদম্বরমের গুরুত্ব উত্তরোত্তর বেড়েছে। সোনিয়ার প্রতি চিদম্বরমের আনুগত্যের কথাও বলা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। দুর্নীতির ‘বিরক্তিকর’ অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি পেতে চিদম্বরমের সোনিয়ার উপর ভরসা করা ছাড়া গতি নেই, এ কথা বলেও প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ‘অন্যান্য অনেক নেতার মতো তিনি নেহ্রু-গান্ধী পরিবারের চাটুকার নন। ১৯৯৬ সালে তিনি দলত্যাগ করেছিলেন, ফিরে আসেন ২০০৪ সালে। তিনি এও মনে করেন না, কংগ্রেস চালাতে নেহ্রু-গান্ধী পরিবারের কেউ অপরিহার্য।’
ব্রিটিশ পত্রিকাটির বক্তব্য, বিজেপি শেষ পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদিকেই প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে বেছে নেবে (এরই মধ্যে বিজেপির সুষমা স্বরাজের মন্তব্যে সে জল্পনা গতিও পেয়েছে )।
তবে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ্যটির আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের আশা করলেও জাতীয় স্তরে তার সামপ্রদায়িক ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। উল্টো দিকে, ভারতের মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে তার আর্থিক নীতিই সবচেয়ে প্রশংসিত। গুজরাটের উন্নয়ন সে কথা বলছে। এই মূল্যায়নের পর ‘দি ইকনোমিস্ট’-এর উপসংহার, আগামী লোকসভা নির্বাচন দুই অর্থনীতির লড়াইয়ে পর্যবসিত হতে পারে। যার এক দিকে চিদম্বরমের সংস্কার মডেল, আর অন্য দিকে মোদির গুজরাট মডেল। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে লড়াই হতে পারে মোদি বনাম চিদম্বরমের আর্থিক মডেলের।
