কলারোয়ার নদ-নদী খাল-বিলসহ চরাঞ্চল এলাকায় সৌখিন ও পেশাদার পাখি শিকারীদের উত্পাত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিস্তীর্ণ জলাভূমি ও চিংড়ি ঘেরে এদেরকে এয়ারগান বা পাখি মারার ফাঁদ নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিন শত শত দেশি ও অতিথি পাখি জীবন হারাচ্ছে এদের হাতে। শিকারীরা ওইসব পাখি বিক্রি করছে বিভিন্ন হাটে বাজারে। উপজেলার খাল বিল ও নদী তীরবর্তী গ্রামবাসিরা জানায়, বর্তমানে শিকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পাখি নিধনের হারও বেড়েছে। এয়ারগান দিয়ে গুলি করে পাখি শিকারের পাশাপাশি জাঁতিকল, বিষটোপ, ঘুমের ওষুধ, ফাঁস জালসহ নানা পন্থায় এসব পাখি শিকার করা হয়। স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে এসব পাখির চাহিদাও যথেষ্ট। দেশি পাখি ওজন ভেদে ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। গ্রামবাসি জানায়, সৌখিন ও পেশাদার শিকারীরা প্রতিদিনই নানা কৌশলে শত শত পাখি শিকার করছে। দেশি প্রজাতির পাখির মধ্যে সাদা ধড় বক, কটে বক, কুঁচ বক, পানকৌরি, বিল বাঁকচোসহ কাঁগ ও বালিহাঁস এবং শীত প্রধান দেশের বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এসব শিকারীদের হাতে ধরা পড়ছে। পেশাদার শিকারীরা এসব পাখির সিংহভাগই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাজারে ফেরি করে বিক্রি করে। সৌখিন শিকারীরা নিজেরা খাওয়ার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে পাখি শিকার করছে। অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ মহলকে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে পাখি সরবরাহ করা হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিকারী জানিয়েছে। পাখি শিকারীরা জানায়, চিংড়িঘেরের মধ্যে মাটির ঢিবি তৈরি করে সেখানে জাঁতি কল পেঁতে রাখা হয়। আগেই শিকার হওয়া দু’একটি পাখি বেঁধে রাখার পর বাইরে থেকে পাখি এসে বসলেই জাঁতিকলে আটকা পড়ে। এছাড়া ফুরাডান জাতীয় কীটনাশক পুঁটি বা ছোট ছোট মাছের মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে চিংড়ি ঘেরের ভেড়ির উপর রেখে দেয়া হয়। বকসহ বিভিন্ন জাতের পাখি ওই মাছ খেয়ে কিছুক্ষণ পর মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এছাড়া অনেকে এয়ারগান ব্যবহারের পাশাপাশি লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য পাখি শিকার করছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারী এড়িয়ে এসব সৌখিন শিকারী মুলত অতিথি পাখি শিকার করে থাকে। কলারোয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. স্বপন কুমার জানান, বিষয়টি বন বিভাগের কার্যক্রমের মধ্যে পড়ে। তারপরও সকলকে পাখি শিকার বন্ধে ভূমিকা রাখা উচিত। ওয়াইল্ড লাইফ-এর খুলনা বিভাগীয় কর্মকর্তা ইয়াছিন নওয়াজ জানান, তাদের শুধু নামেই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। জনবল কিংবা অর্থবল না থাকায় গত এক দশক ধরে নিজস্ব উদ্যোগে বেশ কিছু অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকায় চোরা শিকারীদের তত্পরতা কমানো গেছে। দুরবর্তী এলাকায় তাদের অভিযান পরিচালনা খুবই কঠিন। তবে সময়মত তথ্য পেলে অবৈধ এসব তত্পরতা বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
