মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জিজ্ঞাসা

বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষা আফগানিস্তান বা পাকিস্তানের মত কিনা?

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪১
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও ব্লে¬ক বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। আশা করছি এর মাধ্যমে বাংলাদেশ শিক্ষাক্ষেত্রে আগামীতে আরও অগ্রসর হবে।’ গতকাল সোমবার সিলেটের ফুলবাড়ি আজিরিয়া সিনিয়র আলিয়া মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন রবার্ট ও ব্লেক। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সব সময় সহযোগিতা করতে চায়। তিনি মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে ইংরেজী শিক্ষালাভের সুযোগ করে দিতে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে যাব।’ এ সময় ব্লে¬ক জানতে চান, বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা আফগানিস্তান বা পাকিস্তানের মত কিনা। তার এ প্রশ্নের জবাবে ফুলবাড়ি মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সদস্য এনাম আহমদ চৌধুরী বাংলাদেশের মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, এখানকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জঙ্গি বা সন্ত্রাসবাদের কোন সম্পর্ক নেই। শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে জ্ঞান লাভ করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে। বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা জঙ্গিবাদ বা উগ্রতাকে পছন্দ করে না। তারা সমাজের সব ভালো কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। গতকাল সকাল ১১টায় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফুলবাড়ি আজিরিয়া সিনিয়র আলিয়া মাদ্রাসায় রবার্ট ও ব্লে¬ক, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা ও মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা মাদ্রাসা শিক্ষা বিষয়ে অবহিত হতে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এতে অংশ নেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) সাহাবউদ্দিন খান, গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মুনিরউদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার সার্কেল (দক্ষিণ) গোপাল চক্রবর্তী, ফুলবাড়ি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আতিকুর রহমান, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য এনাম আহমদ চৌধুরী। মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয়ে অবহিত হয়ে বলেন, অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভালো করে ইংরেজী শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। ফুলবাড়ি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ইংরেজী ভাষা শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষকদের সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে মিলিত হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা কার্যক্রমে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। গতকাল বিকালে বিমানে ঢাকায় ফেরার পথে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যান মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তিনি বেশ কয়েকজন ছাত্র ও শিক্ষকের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় ড্যান মজীনা তার সাথে ছিলেন।