মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের সম্মান ও সহানুভূতির চোখে দেখতে সে দেশের বৌদ্ধদের আহ্বান জানিয়েছেন তিব্বতের আধ্যাত্মিক গুরু দালাইলামাসহ ১৭ জন বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা। ধর্মগুরুদের কাছ থেকে এমন সময় এই বিবৃতি এলো যখন মিয়ানমারে, বিশেষ করে রাখাইন প্রদেশে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা মুসলমান রোহিঙ্গাদের উপর খড়্গহস্ত।—খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে জাপান, শ্রীলঙ্কা, মঙ্গোলিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ বৌদ্ধ ধর্মগুরুরা আছেন। মিয়ানমারের বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা দেশটির প্রেসিডেন্ট থেইন সিয়েনকে সমর্থন করছেন। রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি অভিবাসী’ এবং তাদের মিয়ানমার থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া উচিত বলে মনে করেন থেইন সিয়েন। বর্তমানে রাখাইন প্রদেশে (আগের নাম আরাকান) ১০ লাখ রোহিঙ্গার বাস, যারা বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত সংখ্যালঘু-গোষ্ঠীর একটি। ১৯৮২ সালে একটি আইনের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব থেকে তাদের বঞ্চিত হয়। রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিতে ১৯৭৮ সালে রাখাইন প্রদেশে ‘অপারেশ কিং ড্রাগন’ নামে অভিযান চালায় দেশটির সামরিক সরকার। তখন প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। এরপর নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকেও প্রায় একই পরিমাণ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসে। বৌদ্ধ নেতাদের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, “রাখাইনে জাতিগত সহিংসতা এবং সেখানে মুসলিমদের ওপর হামলা পরিচালনা এবং সারাদেশে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বাড়তে থাকায় আমরা উদ্বিগ্ন।”
