সান্তাহার-লালমনিরহাট রেল রুটে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হাসানগঞ্জ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত ৫৪টি রেলগেটের মধ্যে ৩৪টিই ঝুঁকিপূর্ণ। ঐসব রেলগেটে একদিকে যেমন গেটম্যান নেই, তেমনি রাখা হয়নি কোন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। ফলে এসব উন্মুক্ত রেলগেট দিয়ে যানবাহন এবং লোক চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। গত এক বছরে ৫ জনের প্রাণহানি ঘটে।
গাইবান্ধা রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলার সীমানার মধ্যে সান্তাহার-লালমনিরহাট রেল রুটে ১১টি স্টেশন রয়েছে। স্টেশনগুলো হচ্ছে— শালমারা, মহিমাগঞ্জ, বোনারপাড়া, বাদিয়াখালী, ত্রিমোহিনী, গাইবান্ধা, কুপতলা, কামারপাড়া, নলডাঙ্গা, বামনডাঙ্গা ও হাসানগঞ্জ। স্টেশন সংলগ্ন রেলগেটগুলোতে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই মানুষ ও যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। গাইবান্ধা জেলা শহরের ব্যস্ততম এলাকায় ২নং রেলগেটটির অবস্থা ঝুঁকিপূূর্ণ।
রেলগেট সংলগ্ন ব্যবসায়ীরা গেটম্যান নিয়োগের জন্য রেল কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার দাবি জানিয়েও কোন প্রতিকার পায়নি। ফলে ঝুঁকি এড়াতে ঐ রেলগেটে গাইবান্ধা পৌরসভার উদ্যোগে অস্থায়ীভাবে একজন লোক নিয়োগ করা হয়েছে। তাকে ১ হাজার ৮শ’ টাকা করে মাসিক মজুরি দিচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষ। ঐ গেটম্যান আকালুরাম বলেন, ট্রেন আসার সময় শুধু গেটের এক প্রান্তে বাঁশ ধরে লোক ও যান চলাচল কোন মতে বন্ধ করতে হয়। কিন্তু অপর পাশ খালি থাকায় দুর্ঘটনার আশংকা থেকে যায়। রেলগেট সংলগ্ন ব্যবসায়ী চন্দন চ্যাটার্জি বলেন, বর্তমানে ট্রেন চলাচলের সময় একপাশে বাঁশ দিয়ে যানবাহন আটকানো হচ্ছে। তারপরও আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কারণ ঐ পথে সাধারণ যাত্রী ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা চলাচল করে। এছাড়া গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকার রেলগেট ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহন এবং লোকজন ওই পথে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জ রেলস্টেশনের বামনহাজরা গ্রামে অবস্থিত রেলগেটটি উন্মুক্ত। সাঘাটা উপজেলা থেকে ঐ রেলগেট দিয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদরে যেতে ২০ কি.মি. দূরত্ব কম হয় বলে ঐ পথে অনেক হালকা যানবাহন নিয়মিত চলাচল করে। কিন্তু ওই গুরুত্বপূর্ণ রেলগেটে নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থা না থাকায় তাদের ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হতে হচ্ছে। ত্রিমোহিনী স্টেশন সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী বাজারের রেলগেটের অবস্থাও অনুরূপ। প্রায়ই ঐ পথে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
ত্রিমোহিনীর ট্রাক চালক রায়হান আলী জানান, রাতে ট্রেনের আলো দেখে এসব রেলগেটের ওপর দিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করা হয়। কিন্তু দিনে ট্রেন আসছে কি না তা বোঝা যায় না। ফলে রেলগেটে গাড়ি থামিয়ে দু’পাশ দেখে পারাপার হতে হয়। সদর উপজেলার কুপতলা স্টেশনের দক্ষিণ পাশের রেলগেট দিয়ে গাইবান্ধা সদর ও সাদুল্লাপুর উপজেলার অসংখ্য যানবাহন প্রতিদিন চলাচল করে। গত বছরের শেষ দিকে ঐ রেলগেটে ট্রেনের ধাক্কায় এক টেম্পোচালক নিহত হয়েছেন। এরপরও রেল কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
গাইবান্ধা রেলস্টেশনের মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ জানান, লালমনিরহাটে রেলওয়ের বিভাগীয় অফিসে সমস্যাগুলো অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা তারা জানেন না।
