নানা সমস্যায় জর্জরিত পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৯, ২১:২৩

পাঁচ বছর ধরে এক্স-রে মেশিন অকেজো

 হারুনুর রশীদ ছিদ্দিকী, পটিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

নানা সমস্যায় জর্জরিত পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা। পাঁচ বছর ধরে এক্স-রে মেশিন অকেজো, দুই বছর ধরে ডেন্টাল মেশিন নষ্ট, কর্মচারীর সংকট, অক্সিজেন প্যালোমিটার মেশিন অপর্যাপ্ত, কলেরা স্যালাইনের সংকট, প্যাথোলজিস্ট সংকট, পানীয় নলকূপের সংকট, চিকিত্সক সংকট, ট্রান্সফরমার এবং ইলেকট্রিক খুঁটি নষ্টসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে এই হাসপাতালের রোগীরা পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্য সেবা না পেয়ে রোগীরা হাসপাতালের আশপাশে বিভিন্ন ল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে প্রাইভেট চিকিত্সকের কাছ থেকে বেশি টাকা দিয়ে চিকিত্সা সেবা ও শারীরিক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৫০ বেডের হাসপাতালে ২১ জন চিকিত্সক থাকার কথা থাকলেও জুনিয়র কনসালট্যান্ট অর্থোপেডিক, সহকারী সার্জন, প্যাথোলজিস্ট ২ জনের পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে।

গত ১৬ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে গাইনি বিভাগের সামনে রত্না চৌধুরী, তৃষা চৌধুরী, রোজি আকতার, মাহমুদা বেগমকে সকাল ৯টা থেকে গাইনি চিকিত্সকের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। শেষ পর্যন্ত চিকিত্সকের দেখা না পেয়ে তারা ফিরে গেছেন। হাসপাতালে আসা রোগীরা জানিয়েছেন, হাসপাতালের কোনো ডাক্তার যথাসময়ে আসে না। রোগীরা অনেকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত বাইরে প্রাইভেটে চিকিত্সা নিয়ে চলে যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় হতাহতরা জরুরি ভিত্তিতে চিকিত্সা নিতে এলেও কর্তব্যরত চিকিত্সকেরা সামান্য বিষয়েও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। জরুরি বিভাগে চিকিত্সক অনেক সময় উপস্থিত থাকলেও হাসপাতালের ভেতরের কক্ষে অবস্থান নিয়ে মেডিক্যালের সহকারীদের দিয়ে চিকিত্সা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে থাকেন। এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে রোগীদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনা নিত্যদিনের। হাসপাতালের চিকিত্সকরা রোগীদের সাথে কথা বলার চেয়ে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের বেশি সময় দেন বলে অভিযোগ রোগীদের। প্রাইভেট ল্যাব, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লোকজনেরও ভিড় দেখা যায় হাসপাতালে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু ইউসুফ মো. ওয়াহিদ উল্লাহ বলেন, প্রতিদিন হাসপাতালের অন্তঃবিভাগে ২০/২৫ জন রোগী নিয়মিত ভর্তি হচ্ছে। বহির্বিভাগে দৈনিক ২০০/২৫০ জন রোগীর চিকিত্সা সেবাসহ ওষুধ দেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ থাকলেও ওআরএর স্যালাইন, কলেরা স্যালাইন অপর্যাপ্ত। একটি মাত্র অক্সিজেন প্যালোমিটার থাকায় চাহিদা অনুযায়ী রোগীদের অক্সিজেন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে আরো ৫টি অক্সিজেন প্যালোমিটার দরকার। এক্সরে মেশিন দীর্ঘ ৫ বছর ধরে অকেজো। দুই বছর ধরে ডেন্টাল যন্ত্রপাতি অকেজো ও সংকট থাকায় চিকিত্সা সেবা দিতে বেগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে  মহিলাদের জন্য হরমোন পরীক্ষার মেশিন প্রয়োজন। একটি মাত্র ইসিজি মেশিন দিয়ে সব পরীক্ষা করা সম্ভব না, আরো দুটি মেশিন দরকার। ব্লাড ব্যাংক রেফ্রিজারেটরও নষ্ট হয়ে আছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয় এবং সিভিল সার্জন মহোদয়কে জানানো হয়েছে। একাধিকবার জানানোর পর সমস্যাগুলো সমাধান হয়নি বলে তিনি জানান।