বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ইকোনোমিস্ট ও আমার দেশ পত্রিকায় স্কাইপি সংলাপ প্রকাশের পর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ শুরু থেকে বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগের আগ পর্যন্ত যত কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে তার সব কিছু তামাদি হয়ে গেছে, বাতিল হয়ে গেছে। এখন এই ট্রাইব্যুনালের সকল মামলার বিচার কার্যক্রম আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। যদি নতুন করে শুরু না করে মাঝখান দিয়ে আবার বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া হয় তাহলে তা হবে সংবিধান, আইন ও ন্যায়বিচার পরিপন্থী।
গতকাল বুধবার বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের আইনজীবীদের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা, আসামি পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুবউদ্দিন খোকন এমপি ও অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগের মাধ্যমে ইকোনোমিস্ট এবং আমার দেশে প্রকাশিত স্কাইপি সংলাপের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। এতে আরো প্রমাণিত হয়েছে এই বিচার ছিলো সাজানো নাটক ও প্রহসনের। তিনি বলেন, অনেকে বলতে চাইবেন এবং বলছেন যেখান থেকে বিচার থেমে গেছে আবার সেখান থেকে শুরু করা যাবে। হ্যাঁ এটা ঠিক যে স্বাভাবিক অবস্থায় যখন একজন বিচারপতি কোন বিচারের মাঝখানে বদলি হন তখন ওই বিচার কার্যক্রম চলমান থাকে। নতুন বিচারপতি নিয়োগ হলেও মাঝখান থেকেই বিচার চলে। এটা আইনে আছে। তবে সেটা তো স্বাভাবিক অবস্থায়। কিন্তু এখানে তো কোন স্বাভাবিক অবস্থায় বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম পদত্যাগ করেননি। তিনি চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি এমন কিছু করেছিলেন যাতে তিনি আর জাতির সামনে মুখ দেখাতে পারছিলেন না। তাই এখানে এই অস্বাভাবিক অবস্থায়ও তার যে অসদাচরণ এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য বের হয়ে আসছে তাতে এ বিচার মাঝখান থেকে শুরু হতে পারে না। স্বাভাবিক আইন এখানে কার্যকর হতে পারে না। নতুন করে সব কিছু শুরু করতে হবে। কারণ বিচারপতি নিজামুল হক এ বিচারকে রাজনীতিকীকরণ করেছেন। বিচার প্রক্রিয়াকে কলুষিত করেছেন। কাজেই শুরু থেকে আবার বিচার শুরু করা এটাই ন্যায় বিচারের দাবি। যদি নতুন করে বিচার শুরু না করে মাঝপথে আবার বিচার এগিয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করা হয় তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
স্কাইপি সংলাপের অংশবিশেষ তুলে ধরে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, বিচারপতি নিজামুল হক এভাবে বাইরে থেকে রায় লিখে আনাসহ নানা বিষয় নিয়ে তিনি প্রবাসী এক আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন, যা কোন বিচারপতি করতে পারেন না। তাকে শুধু পদত্যাগ করলেই চলবে না, তিনি অসদাচরণ ও শপথ ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত। রাষ্ট্রপতির উচিত হবে তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে ব্যবস্থা নেয়া।
অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, স্কাইপি কেলেঙ্কারি ফাঁসের পর এই ট্রাইব্যুনালের বিচারের আর কোন গ্রহণযোগ্যতা থাকতে পারে না।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিচার বিভাগের ইতিহাসে এমন কলঙ্কজনক ঘটনার নজির আর নেই। বিচার বিভাগীয় তদন্ত আমরা দাবি করতে পারি কিন্তু তার ফল আপনারা জানেন। তাই আন্তর্জাতিকভাবে তদন্ত কমিশন গঠন করে এই ঘটনার তদন্ত করার দাবি জানাচ্ছি।
অ্যডিভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগ দাবি করেছিলাম। বিচারপতি নিজামুল হক চলে গেছেন। এখনো একজন বিচারপতি আছেন যিনি বিচারপতির আসনে বসে রাজনীতি করছেন। তার পদত্যাগ দাবি করছি।
