সিরিয়ার বিরুদ্ধে স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:১০
সিরিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের উপর স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের কাছে বোমা বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। এরই মধ্যে সিরিয়ার বিরোধী জোটকে সেদেশের জনগণের বৈধ প্রতিনিধি হিসাবে পূর্ণ স্বীকৃতি দিয়েছে ‘ফ্রেন্ডস অফ সিরিয়া’। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের উপর স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে কমপক্ষে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একজন কমকর্তা অভিযোগ করেছেন। তিনি সংবাদ সংস্থা এএফপি’কে বলেছেন, সরকারি বাহিনীর স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে ২১ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের তীব্রতা দারুণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঐ কমকর্তা বলেন, ‘সিরিয়ার ভূমির মধ্যে স্কাড নেমেছে।’ সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান ফটকে একটি গাড়িবোমাসহ আরো দু’টি বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। এর আগে প্যালেস অফ জাস্টিসের সামনে একটি গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে একজন নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার এমন কিছু স্থানে বিস্ফোরণ হয়েছে ২১ মাসের এই যুদ্ধের মধ্যে যা আগে কখনো হয়নি। সিরিয়ার বিরোধী জোটকে সেদেশের জনগণের বৈধ প্রতিনিধি হিসাবে পূর্ণ স্বীকৃতি দিয়েছে ‘ফ্রেন্ডস অফ সিরিয়া’। মরোক্কোর মাররাকেশ শহরে বেশ কয়েকটি পশ্চিমা ও আরব রাষ্ট্রসহ ৭০টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ‘ফ্রেন্ডস অফ সিরিয়া’ গ্রুপ সিরিয়ার বিরোধী জোটকে স্বীকৃতি জানিয়ে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পদত্যাগ দাবি করেছে। একই সঙ্গে সিরিয়ার জনগণের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার না করার ব্যাপারেও তারা সতর্ক করেছে। বৈঠকের খসড়া ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীরা সিরিয়ান ন্যাশনাল কোয়ালিশনকে সেদেশের জনগণের বৈধ প্রতিনিধি হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, আসাদ ক্ষমতা থাকার বৈধতা হারিয়েছেন। দেশে টেকসই রাজনৈতিক উত্তরণের স্বার্থে তার সরে দাঁড়ানো উচিত। সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কার খবর কয়েকটি পশ্চিমা দেশের গোয়েন্দা প্রতিবেদন উল্লেখ করে ঘোষণাপত্রে বলা হয়, রাসায়নিক অস্ত্রের কোনোরকম ব্যবহার মেনে নেয়া হবে না এবং এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় কড়া ব্যবস্থা নেবে। মরোক্কো বৈঠকে সিরিয়ার বিরোধী জোটকে ওই স্বীকৃতির কয়েক ঘণ্টা আগে এ জোটকে স্বীকৃতি দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ওবামার এই ঘোষণার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার বিরোধী জোটকে স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমে এই যুদ্ধে তাদের জয়ী হওয়ার জন্য মদত দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যে সিরিয়ার ন্যাশনাল কোয়ালিশনকে সিরিয়ার জনগণের একমাত্র প্রতিনিধি বল স্বীকৃতি দিয়েছে সেটা জেনেভায় যে চুক্তি হয়েছিল তার লংঘন। কারণ, সেই চুক্তিতে সিরিয়া সরকারের প্রতিনিধি এবং বিরোধীদের মধ্যে আলোচনা শুরু করার কথা বলা হয়েছিল।