সারিয়াকান্দিতে যমুনা তীর সংরক্ষণ প্রকল্প অনিশ্চিত

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:১৭
নদী ভাঙন যমুনা পাড়ের মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে যে যতটুকু বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারে তার উপরই নির্ভর করে জয়-পরাজয়। এমনই এক প্রেক্ষাপটে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ আসনের (সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনটের অংশ বিশেষ) আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী আব্দুল মান্নান বিএনপির প্রার্থী শোকরানাকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন। নির্বাচনের আগে দেয়া প্রতিশ্রুতির মূল্যায়ন ইতোমধ্যেই প্রতিফলিত হতে শুরু করেছে। ওই নির্বাচনী এলাকার তালুকদার পাড়া গ্রামের গৃহহারা আব্দুর রহমান, ব্যবসায়ী সুজন মিয়া ইত্তেফাককে জানান, চন্দবাইশায় নির্বাচনী জনসভায় এমপি সাহেব বলেছিলেন, তিনি নির্বাচিত হলে এক ইঞ্চি মাটিও ভাঙতে দেবেন না। তিনি এমপি হয়েছেন কিন্তু যমুনার ভাঙন থেকে আমাদের বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট রক্ষা পায়নি। গত ২ মাসে বগুড়ার সমৃদ্ধ জনপদ চন্দনবাইশার তিনটি গ্রামের ৩ হাজার পরিবার নদী ভাঙনে গৃহহীন হয়েছে। ৬/৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজার বিলীন হয়েছে। তারপরও তীর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের কোন খবর নেই। এমনই অভিব্যক্তি যমুনার পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত সব মানুষের। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে তীর রক্ষা প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে কিন্তু অর্থের অভাবে তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছেনা। পানি উন্নয়ন বোর্ড আরো জানান বর্তমান সরকারের আমলে যমুনার ভাঙন রোধে ২০১০ সালে প্রথম ফেজে ১১৭ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় ফেজে ২১৫ কোটি টাকা অনুমোদন দেয়া হয়। প্রথম ফেজে ১১৭ কোটি টাকার মধ্যে ৫ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। ওই টাকায় ৯ টি গ্রুপ করে কিছু সিসি ব্লক তৈরি করা হয়েছে। এরপর ২১৫ কোটি টাকার কয়েকটি গ্রুপের কাজের জন্য বার বার টেন্ডার আহবান করেও কোন ঠিকাদার পাওয়া যাচ্ছেনা। কারণ হিসেবে ঠিকাদাররা জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ করে ঠিকমত বিল পাওয়া যায়না। তাই তাঁরা বাকিতে কাজ করতে আগ্রহী নন। এব্যাপারে আব্দুল মান্নান এমপি ইত্তেফাককে জানান আমি প্রকল্প অনুমোদন করিয়েছে। অর্থ বরাদ্দের জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি। উল্লেখ্য, একাধারে ৩ বার বিএনপি দলীয় প্রার্থীর কাছে পরাজিত হবার পর যমুনার ভাঙন রোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আব্দুল মান্নান চতুর্থ বারে জয়লাভ করেন। তার সময়ের মধ্যে তীর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়িত না হলে এর প্রভাব আগামী নির্বাচনে পড়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।