বিজয়ের মাসে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর নামে আন্দোলনের ডাক দিয়ে বিএনপি শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ও জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের নৈতিকতা হারিয়েছে বলে মনে করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে বিএনপি-জামায়াত তাদের অগ্রবর্তী শক্তি হিসেবে ছাত্রদল এবং ছাত্র শিবিরকে ব্যবহার করছে। জামায়াতের হরতালে সমর্থন দিয়ে বিএনপি প্রমাণ করেছে যে, তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আরো বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য বিএনপি-জামায়াত জোট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেশে বিদেশে ষড়যন্ত্র করছে। তারা আইন-শৃংখলা বাহিনীর ওপর প্রতিনিয়ত হামলা চালাচ্ছে। প্রেস সচিব বলেন, বিএনপি জামায়াতকে অশুভ পথ থেকে সরে এসে জনকল্যাণ ও দেশের উন্নয়নে কাজ করতে প্রধানমন্ত্রী আহবান জানিয়েছেন। দেশের শান্তি বিনষ্ট না করারও আহবান জানিয়েছেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি-জামায়াত জোটের হরতাল চলাকালে পুরোনো ঢাকায় নিহত বিশ্বজিতের খুনিরা ছাত্রলীগের কেউ নয় বলেও দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে সবার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা ছাত্রলীগের কেউ নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বজিতের খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এ সাংবাদিক সম্মেলনে বিশ্বজিত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ৬ জনকে শনাক্ত করে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, অভিযুক্ত ওবায়েদুল কাদের ওরফে তাহসিনের বাড়ি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া পৌরসভার এক নং ওয়ার্ডের চরকৈলাশ গ্রামে। সে আগে শিবিরের কর্মী ছিল। তার পিতা মাওলানা মহিউদ্দিন বর্তমানে সুখচর আজহারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। তার বড় ভাই সাব্বির আহম্মদ কাজল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র শিবিরের একজন নেতা ছিলেন। বর্তমানে ঢাকায় মিশন গ্রুপে কর্মরত। তার ছোট ভাই মঞ্জুর কাদের দাখিল পরিক্ষার্থী। ছোট বোন তাহমিনা আক্তার মাদ্রাসায় পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। অপর অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম শাকিলের বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলার ফায়ার সার্ভিস রোডে। তার পিতা আনছার আলী খলিফা পটুয়াখালী কর অফিসের অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন এবং বিএনপির সমর্থক। তার বড় ভাই সহিদুল ইসলাম শাহীন পটুয়াখালী পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক। অভিযুক্ত মাহফুজুর রহমান নাহিদের পিতার নাম আব্দুর রহমান। ভোলার দৌলতখানে দক্ষিণ জয়নগরের নাহিদ বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে আলিম ও ফাজিল পাস করে। তার নানা মৃত ইউনুস একজন কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন। তার মামারা বিএনপি সমর্থক। নাহিদ শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো। তার বাবাও স্থানীয় জামায়াত নেতা। বড় ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হল শাখা শিবিরের সভাপতি। ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। অপর অভিযুক্ত মীর মুহম্মদ নুরে আলম লিমনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, ছিনতাই, অপহরণসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযুক্ত ইমদাদুল হকের বাবার নাম আকরাম আলী। তার বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার পাঁচ কয়রা গ্রামে। এছাড়া নরসিংদীর মনোহরদীর আবদুল হাইয়ের ছেলে সাইফুল ইসলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র, ইসলামী ইতিহাস বিভাগে পড়াশোনা করছে।
লিখিত বক্তব্যে আবুল কালম আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন খুনিদের কোন দলীয় পরিচয় নেই। তারা যে-ই হোক না কেন গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
