বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত এবং স্থানচ্যুত মানুষের তথা নোয়াখালীবাসীর অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এক এ্যাডভোকেসী সভা বৃহস্পতিবার নোয়াখালী বিআরডিবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। ডিসপ্লেসমেন্ট সলিয়েশন এর সহযোগিতায় ও উন্নয়ন সংগঠন ‘ইপসা’এবং স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘প্রান’ এর যৌথ উদ্যোগে সভায় আলোচকরা বলেন, নোয়াখালীর সবচেয়ে বড় সমস্যা মেঘনা’র নদী ভাঙ্গন। প্রধানত দুটো স্থান হাতিয়া, সুবর্ণচর, কোম্পানীগঞ্জ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এখানে মানুষগুলো নদী ভাঙ্গনে সব কিছু হারিয়ে বেড়ী বাঁধের উপরে বসবাস করছে। সেখানে নেই কোন স্বাস্থ্য সেবা, নেই কোন স্কুল-কলেজ। তাদের ঘরবাড়ি ভূমি বলতে ঐ বাঁধের উপরে বসবাস। তারা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াতে নতুন মডেলের বাড়িঘর তৈরি করার মত সামর্থ্য তাদের নেই। তাই তাদের সহযোগিতা করা দরকার।
বক্তারা আরো বলেন, উপকূলীয় অঞ্চল এবং নদী বিধৌত ভূমিগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ের সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি, তাপমাত্রার ভারসাম্যহীনতা এবং অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতসহ সামগ্রিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবে ভূমি ব্যবহার, গৃহায়নসহ জনজীবনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অর্জনগুলো ব্যাহত হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের যে সকল চরে লবণাক্ততা বেশি সে সকল ভূমিতে লবণাক্ত সহিষ্ণু বীজ লাগানো, স্থানচ্যুতদের মাঝে সরকারি খাস জমি সঠিকভাবে বন্দোবস্ত প্রদান করার কথাও বলা হয়।
সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড়, উপকূলীয় জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডোর আঘাতে বারবার মানুষের সম্পদ ও ঘরবাড়ি নষ্ট হচ্ছে। এদের মধ্যে অনেকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাড়িঘর, জমি জমা হারিয়েছেন। নোয়াখালী জেলায় অনেক স্থান সবসময় পানিতে নিমজ্জিত থাকে। ইপসা’র যে উদ্যোগ বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও স্থানচ্যুত সমপ্রদায়ের সমস্যা নিরসনে অধিকারভিত্তিক কাজ চিহ্নিতকরণ এবং তাদের ঘর, ভূমি ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য রাজনৈতিক স্বার্থের বাইরে সবাই এক সাথে কাজ করার উপর গুরুতারোপ করেন।
সভায় সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নিলুফার মমিন, নোয়াখালী সমাজসেবা অধিদপ্তর এর ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আবদুর রহমান, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফজলুল হক বাদল, গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট এর পরিচালক রাহা নব কুমার, সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম সুমন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘রিমোল্ড’ নির্বাহী প্রধান মনু গুপ্ত, বিনোদপুর ইউপি সদস্য রৌশন আক্তার লাকি, জেলা যুবদল সভাপতি মাহবুব আলমগীর আলো প্রমুখ আলোচন করেন। প্রাণ এর নির্বাহী প্রধান নুরুল আলম মাসুদের সঞ্চালনায় সভায় পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে ইপসা’র কার্যক্রম এবং এ্যাডভোকেসী সভার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন ইপসার’র প্রোগ্রাম অফিসার সৈয়দ আশ্রাফ উল্লাহ।
এ্যাডভোকেসী সভার মূল ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ইপসার যুব কার্যক্রমের ফোকাল পারসন সুবীর দাশ।
