অন্য তারুণ্য

পূর্ণতার পথচলা

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১২, ১৭:৫০
‘ছেলেবেলা থেকেই ঝোঁক ছিল সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতি। ‘মুক্তখবর’-এ কাজ করার স্বপ্ন দেখতাম তখন থেকে। একুশে টেলিভিশন তখন বন্ধ, একদিন স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের কাছে শুনলাম ‘মুক্তখবর’-এর অডিশন হবে। দুর্ভাগ্যবশত সেইদিন আমি স্কুলে যাইনি। বাসায় এসে মন খারাপ করে বসে থাকলাম। বাবা তখন প্রযোজকের সাথে কথা বলে আমার আগ্রহের কথা জানালেন।’ এভাবেই তত্কালীন প্রযোজক প্রণব সাহার হাত ধরে ‘মুক্তখবর’-এ প্রবেশের কথা শোনালেন পূর্ণতা। ‘তারপর শুরু হয় প্রশিক্ষণ। সময়টা ২০০৫ সাল, আমি তখন ধানমন্ডি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস সেভেনে পড়ি। স্কুল করেই বিকালে চলে যেতাম অফিসে। মনে হতো নিজেদেরই অফিস,’ বলে খানিকটা হাসলেন পূর্ণতা, বললেন, ‘আমাদেরই তো, এখনও মুক্তখবরের কর্মীরাই যে অফিসটা মাতিয়ে রাখি।’ প্রথম দিকের অভিজ্ঞতা শুনতে চাইলে বললেন, ‘শুরুতে রিপোর্টার হিসেবে ছিলাম। প্রথম দিন রিপোর্ট করতে গিয়েছিলাম রূপগঞ্জে।’ তারপরের গল্পটা শুধুই সামনে এগিয়ে যাওয়ার। দুই-তিন বছর কাজ করার পর সুযোগ আসে ‘মুক্তখবর’-এর সংবাদ উপস্থাপক হওয়ার। আগে শুধু রিপোর্ট করতেন, এখন সবার রিপোর্টগুলো দর্শকের সামনে তুলে ধরতে হয়। কিছুদিন পর একুশে টেলিভিশন ছোটদের জন্য নিবেদিত অনুষ্ঠানটি আরও বেশি শিশুদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে পরিচালনা তথা প্রযোজকের দায়িত্ব তুলে দিতে চায় ‘মুক্তখবর’-এর ক্ষুদে সাংবাদিকদের উপর। তারই ধারাবাহিকতায় সদ্য স্কুল পেরোনো পূর্ণতাকে বসানো হলো প্রযোজকের আসনে। এখনও ‘মুক্তখবর’-এর ক্ষুদে কর্মীদের সাথে নিয়ে চলছে তাদের অনুষ্ঠানটিকে আরও নান্দনিক ও সময়োপযোগী করে তোলার প্রয়াস। প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর অনুভূতি কেমন ছিল, এই প্রশ্নের উত্তরে একটু থেমে বললেন, ‘আমার উপর যখন আস্থা রেখে কাজটা দেওয়া হলো, চেষ্টা করেছি সাধ্যমতো সেটি করার। ‘মুক্তখবর’-এর বন্ধুদের সহযোগিতা আর বাবা-মার অনুপ্রেরণা না থাকলে এত পথ পাড়ি দিতে পারতাম না। আর যার অবদান সবচেয়ে বেশি তিনি আমাদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম।’ সম্প্রতি ইউনিসেফ পূর্ণতাকে বেদেপল্লীর শিশুদের নিয়ে দুর্লভ একটি প্রতিবেদন করায় মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেছে। এই সম্পর্কে তার বক্তব্য, ‘কোনো কাজের স্বীকৃতি আরও ভালো কাজ করার জন্য উত্সাহ জোগায়। সেই সাথে কাজের প্রতি দায়বদ্ধতাও বাড়ায়।’ এ দেশের কিশোর সাংবাদিকতার অন্যতম উদাহরণ পূর্ণতা জিতেছেন নানা পুরস্কার— ইন্টারন্যাশনাল লায়ন্স অ্যাওয়ার্ড (২০১১), সেভ দ্য চিলড্রেন অ্যাওয়ার্ড (২০০৯), স্বাধীনতা সংসদ পুরস্কার (২০১১), প্ল্যান বাংলাদেশ, ব্রিটিশ কাউন্সিল অ্যাওয়ার্ড (২০১০)। পূর্ণতা এখন আইন বিষয়ে পড়ছেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীনে একটি ল’ কলেজে। নাচ, গান আর বিতর্কে পারদর্শী। বিতার্কিক হিসেবে জিতে নিয়েছেন ২০০৭ সালের বাংলাদেশ টেলিভিশনের শ্রেষ্ঠ বিতার্কিকের সম্মাননা। বাবাকেই তার আদর্শ মনে করেন। এই বছরে বাবাকে হারিয়েছে তিনি, কিন্তু তার বিশ্বাস, বাবা যেখানেই আছেন, তার জন্য দোয়া করছেন। কাজের বাইরে মা আর ছোট দু’ভাই-বোন আকিব এবং কিন্নরীকে নিয়েই তার সময় কাটে। ভবিষ্যতে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন তার। নামের মতোই তার সব কাজ পূর্ণতা পাক।