বিআইবিএমের গোলটেবিল বৈঠক

ব্যাংকিং খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাবে ব্লকচেইন

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৩৭

ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ব্লকচেইন খুবই সম্ভাবনাময়। বিশ্বের কয়েকটি দেশে এরই মধ্যে জনপ্রিয়তা পেলেও বাংলাদেশে যাত্রা শুরু হয়েছে মাত্র। এ প্রযুক্তি ব্যবহার হলে ব্যাংকিং সামনে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গোলটেবিল আলোচনায় এমন ধারণা পোষণ করা হয়। মূলত ব্যাংকিংয়ে ব্লকচেইন হলো আর্থিক ও তথ্য লেনদেনের এক ধরনের ব্যবস্থা। এ ব্লকচেইন হলো এক ধরনের ডাটা স্ট্রাকচার যা তথ্যেও বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল লেজার তৈরি করতে কাজ করে। একটি নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কের আওতাধীন সকল কম্পিউটার মিলে এই বিকেন্দ্রীভূত লেজার তৈরি করে, যা অত্যন্ত নিরাপদ।

গতকাল রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ‘রেলিভেন্স অব ব্লকচেইন ফর ব্যাংকস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক  গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।  গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর ড. বরকত-এ-খোদা। তিনি নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকিংয়ে ব্লকচেইন ব্যবহারের ওপর জোরারোপ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক (প্রশাসন ও হিসাব এবং গবেষণা, উন্নয়ন ও পরামর্শ) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জ্জী। তিনি তার বক্তব্যে ব্যাংকিংয়ে ব্লকচেইন ব্যবহার বিষয়টি বিশ্লেষণ করেন।

গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআইবিএমের নির্বাহী কমিটির সভাপতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস.এম. মনিরুজ্জামান। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান আলম। চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এ গবেষণা সম্পন্ন করেন। গবেষণা দলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক কানিজ রাব্বী, ইউনাইটেড নেশনস ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (ইউএনসিডিএফ) কান্ট্রি প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. আশ্রাফুল আলম এবং নাজটেক ইনকর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল আহমেদ নাজ।  গবেষণায় প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি দুই ধরনের তথ্যের ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষণায় দেশের ৩৪ টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে ১০০ জনের বেশি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাক্ষাত্কার নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে এস.এম. মনিরুজ্জামান বলেন, একটি নিয়ন্ত্রণমূলক সংস্থা হিসেবে ই-ব্যাংকিং পরিচালনায় বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর  এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, ব্লকচেইনের মাধ্যমে অন্য দেশ কিভাবে সুবিধা পাচ্ছে তা জানতে হবে। এর পাশাপাশি কিভাবে ব্লকচেইন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা ব্যাংকারদের জানা খুব জরুরি। এটি না করলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত পিছিয়ে পড়বে।

পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী  অভিমত ব্যক্ত করেন যে, বিশ্বায়নের যুগে প্রযুক্তি ব্যবহারের দিক থেকে সক্ষমতা অর্জন এবং সুষ্ঠু নিরাপত্তার বিষয়ে নজর দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মো. ইয়াছিন আলি বলেন, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়ে প্রথম উদ্যোগটা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নিতে হবে।

মো. আশ্রাফুল আলম বলেন, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে সব সময় এক ধরনের ভীতি কাজ করে। ব্যাংকাররাও ব্লকচেইন সম্পর্কে জানলে এ বিষয়ে ভীতি কেটে যাবে। ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের চিফ ডিজিটাল অফিসার শ্যামল বরণ দাশ বলেন, ব্যাংকের নিজেদের উদ্যোগে সুবিধা-অসুবিধা বিশ্লেষণ করে অভ্যন্তরীণভাবে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।