চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৬তম ব্যাচের মিলনমেলা

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৯
‘চলরে আবার শাটল ট্রেনে, মধুর একখান গান ধরি। চলরে আবার জারুল তলায়, গল্প করে প্রাণ ভরি’ শ্লোগানকে সামনে রেখে গতকাল শুক্রবার পালিত হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬তম ব্যাচের পুনর্মিলনী ‘মিলনমেলা’। নগরীর আগ্রাবাদ শিশুপার্কে এ অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়। এ উপলক্ষে পালন করা হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণ, অনুভূতি প্রকাশ, স্মরণিকা বিতরণ, মধ্যাহ্ন ভোজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র্যাফেল ড্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পুরস্কার বিতরণ। মিলন মেলায় এসে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মিজানুর রহমান মজুমদার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শাটল ট্রেনের সেই গান এখনো মনে পড়ে। শাটল ট্রেন এখনো দেখি কিন্তু সেই গান শুনতে না পারায় মাঝে মাঝে মনের মধ্যে সত্যিই ব্যাকুলতা জাগে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতি তুলে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে সাজেদা রুমা বলেন, বাচ্চাদের পরীক্ষা থাকা সত্ত্বেও বন্ধুদের টানে ঢাকা থেকে ছুটে আসলাম। মিলনের সুরে আসা ড. নসিম হাসান জানান, এখন শিক্ষকতা করছি বিশ্ববিদ্যালয়েই। সবই আগের মত আছে কিন্তু সেই বন্ধুরা নেই। আজ বন্ধুদের সবাইকে একসাথে পেয়ে আনন্দ লাগছে। মিলন মেলায় এসে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আবু বকর রাহাত বলেন, এতদিন পর সবার একসাথে হওয়া সত্যিই অনেক আনন্দের। দিনাজপুর থেকে ছুটে আসা জেসমিন আক্তার তানিশা বলেন, প্রথমবার আসতে পারেনি, তাই এবার ১৫ বছর পর দেখা হওয়ায় সত্যিই অনেক ভাল লাগছে। পুনর্মিলনী উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬তম ব্যাচের ইকবাল পিন্টু, অনন্য ও তার নাচের দল, কণ্ঠশিল্পী মুনমুন ও রুমা খান। এছাড়া আয়োজন করা হয় আলোচনাসভার। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর আব্দুল মান্নান, বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রফেসর মো. সিকান্দার খান, প্রফেসর ড. তোফায়েল আহমেদ প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর আব্দুল মান্নান বলেন, একমাত্র শিক্ষার মাধ্যমেই একটি জাতি তার স্বকীয়তা তুলে ধরতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের ৪১ বছর পর আমাদের এ উদীয়মান জাতিকে উন্নত দেশে পরিণত করতে একটি শক্তিশালী শিক্ষিত যুব সমাজই যথেষ্ট।