সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের বিভিন্ন উপাদান সংশোধন ও বন্ধ করতে গুগলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ব্রিটেনের সাবেক পুলিশ প্রধান। সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার স্যার মার্ক রয়েল বলেন,‘ এটি একটি অপমানজনক বিষয় সার্চ টিমে যারা কাজ করেন তাদের জন্য।
সম্প্রতি তিনি বিবিসি রেডিওর একটি অনুষ্ঠানে বলেন,‘ ইন্টারনেট ভিত্তিক সার্চ কোম্পানিগুলো এলগেরিদম বিজ্ঞাপন থেকে রাজস্ব আয়ের জন্য চরমপন্থি উপাদানগুলোর প্রতি জোর দেয়।
কিন্তু গুগল এ দাবিকে অস্বীকার করে। গুগল এ বিষয়ে বলেছে, থার্টপার্টি কারো আসনে বসার লক্ষণ এটি। ব্রিটিশ সাবেক পুলিশ প্রধান শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি উইকিপিডিয়াতে সার্চ হিস্ট্রি যাচাই করতে অনুরোধ করেন। এতে, গত বছর কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া আনজিম চৌধুরী সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে। যার ইসলামিক স্টেট গ্রুপের সমর্থনে উত্সাহিত করার জন্য তার পাঁচ বছরের জেল হয়েছিল।
সম্প্রতি এ বিষয়ে আনজিম চৌধুরী বলেন,‘ আমি কয়েক মাস আগে এ বিষয়টি উল্লেখ করেছি। যদি আপনি গুগলে ‘ব্রিটিশ মুসলিম মুখপাত্র’ লিখে সার্চ করেন তাহলে আনজিম চৌধুরীকে পেয়ে যাবেন। এটি একটি অপমানজনক বিষয়।’
এ বিষয়ে স্যার মার্ক বলেন,‘গুগলের এলগরিদমগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে বিতর্কিত বিষয়গুলো বেশি হাইলাইট করে। কারণ, বিজ্ঞাপন থেকে অর্জিত রাজস্বের জন্য এমন করা হয়েছে। যাতে আগ্রহীরা পরবর্তী লাইনগুলো পড়ে দেখেন।’
বিষয়টি গুগল অস্বীকার করেছে। এ বিষয়ে গুগল বলছে, এটি একটি থার্টপার্টি প্লাটফর্ম যেখান থেকে ব্যবহারকারীরা দ্রুত জনপ্রিয়তা পেতে চায়।
এ বিষয় বিবিসি জানায়, সাধারণ সংবাদ সম্পর্কিত অনুসন্ধানের পাশে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন হয় না।
এ বিষয়ে স্যার মার্ক আরো বলেন,‘ সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলোর বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা করার মতো দক্ষতা ও গতি তাদের পর্যাপ্ত ছিল না।’
ইউটিউব, ফেসবুক ও টুইটার চলতি সপ্তাহে তাদের ঘৃণাত্মক বক্তব্যের উপর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিবে বলে জানিয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির প্রধান হলেন ইফতি কপার।
ইউটিউবের নির্বাহী কর্মকর্তা মার্কো পেন্সিনি বলেন,‘ বিতর্কিত বিষয় বস্তু’ যাতে কম দৃশ্যমান হয় তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।’
এটি সঠিক নয় যে, গুগল এলগেরিদমে শুধুমাত্র মুসলিমদের সম্পর্কে বিতর্কিত ফলাফল প্রদর্শন করে। এর আগেও একটি গুগল অনুসন্ধানে খ্রিষ্টান ভয়েছে দেখা গিয়েছে ‘লন্ডনের খ্রিষ্টান মুখপাত্র’। খ্রিষ্টান ভয়েস হলো একটি সংস্থা যারা বাইবেলের উপর ভিত্তি করে ব্রিটিশ আইন প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানিয়ে ছিল। সংস্থাটি, সমকামিতা, গর্ভপাত ও বাধ্যতামূলক যৌন শিক্ষার বিরোধিতা করে।
ফেসবুক, টুইটার ও গুগল এই তিনটি সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মকে দেশটির পুলিশের পক্ষ থেকে জিজ্ঞাসা করা হয়। তারা যখন ব্যবহারকারীদের জন্য প্রচার-প্রচারণা করে তখন তাদের প্রতিক্রিয়া কীভাবে জানায়। তিনটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে জানানো হয়,‘ জীবনে ঝুঁকি থাকে’ এমন কোনো তথ্য হলে তারা ব্যবহারকারীদের কাছে তথ্য সরবরাহ করে।
স্যার মার্ক সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বলেন,‘ সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলোকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত যে কোনো তথ্য তাদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এ জন্য তাদেরকে আরো পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।’
সূত্র : বিবিসি
