দপ্তরবিহীন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি বিরোধী দলীয় নেত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, হরতাল-অবরোধের মাধ্যমে জ্বালাও-পোড়াও ও মানুষ হত্যার রাজনীতি যদি নির্বাচন পদ্ধতির জন্য হয়ে থাকে, তাহলে আসুন ‘অন্তর্বর্তীকালীন সর্বদলীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ নিয়ে আলোচনা করি। তবে যদি যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা ও বিচার বানচালের জন্য এই ধ্বংসাত্মক রাজনীতির পথ বেছে নেন, তাহলে আপনাদের সঙ্গে কোন আলোচনা নয়। কারণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই।
গতকাল শনিবার পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর বঙ্গমাতা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিএনপি-জামায়াতের সহিংস রাজনীতি ও বর্তমান প্রেক্ষিত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নির্বাচনকালীন নতুন সরকার ব্যবস্থার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সর্বদলীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ পদ্ধতির অন্তর্বর্তীকালীন শব্দটির অর্থ হবে শুধু নির্বাচনকালীন সময়টুকু আর তত্ত্বাবধায়ক শব্দটির অর্থ হবে নির্বাচন তত্ত্বাবধান করা। এর বাইরে এ সরকারের আর বেশি কিছু করার ক্ষমতা থাকবে না। এ সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সংসদ কিংবা সংসদের বাইরে যে কোন স্থানে আলোচনা করতে আওয়ামী লীগ প্রস্তুত। তিনি হরতাল-অবরোধ প্রসঙ্গে বলেন, নিজের গাড়ি বাড়িতে রেখে রাস্তায় এসে অন্যের গাড়ি পোড়ানো গণতান্ত্রিক আচরণ নয়। আগে নিজের গাড়ি পোড়ান। যদি জামায়াতকে রক্ষার জন্যই এই জ্বালাও-পোড়াও ও হত্যার রাজনীতি চালু করে জনগণের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করতে চান, তাহলে আওয়ামী লীগ মাঠে থাকবেই।
সংগঠনের সভাপতি আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বঙ্গমাতা পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য তোহরা আলী এমপি, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ নেতা এমদাদুল হক ভুঁইয়া, পরিষেদের নেতা শওকত হোসেন প্রমুখ।
