মাহফুজা আক্তার
ডাক নাম :লাকী
জন্মতারিখ ও স্থান :০৮ অক্টোবর ১৯৮২, বরিশাল
মায়ের নাম :রোকেয়া বেগম
বাবার নাম :মো. আব্দুর রাজ্জাক
প্রথম স্কুল :সিস্টারডে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বরিশাল
প্রিয় মানুষ :আমার মা
প্রিয় উক্তি :যে সহজ সরল জীবনযাপন করে সুখ তার জন্য অত্যন্ত সুলভ্য-আলেক জান্ডার
প্রিয় পোশাক :শাড়ি
অবসর কাটে কিভাবে :টেলিভিশন দেখে, বই পড়ে আর একমাত্র শিশুকন্যার সাথে খেলা করে
সাফল্যের সংজ্ঞা :যেকোনো কাজে শুরু থেকে একাগ্রচিত্তে দৃঢ়তার সাথে করলে সাফল্য আসবেই।
তার কর্মজীবন শুরু হয় ছাত্রী থাকাকালীন। তখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করতে শুরু করেছিলেন একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং বিভাগে। কিন্তু এ পেশায় কাজ শুরু করেন ২০০৭ সাল থেকে। হঠাত্ করেই সুযোগ হয় বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-তে কাজ করার। ২০০৮-এর সেপ্টেম্বর থেকে এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। প্রথমেই চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছিল—১ মাসের মধ্যেই ১টি আন্তর্জাতিক মানের মেলার কাজ করতে হয়েছিল তাকে। তিন দিনব্যাপী সে মেলার প্রত্যেক দিনের বিভিন্ন আয়োজনের তথ্য টেলিভিশন এবং সংবাদপত্রগুলোতে প্রচারের দায়িত্ব ছিল তার একার উপর। প্রথমে কিছুটা চিন্তিত ছিলেন। পরবর্তীতে অবশ্য গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক প্রচার পেয়েছিল অনুষ্ঠানটি এবং এর মাধ্যমে তার অবস্থানের উপর আস্থা অর্জন করা সহজ হয়েছিল প্রতিষ্ঠানের জন্য।
মাহফুজার কাছে শুরু থেকেই এই পেশাটি ব্যতিক্রমী মনে হয়েছিল। খুব বেশি সংখ্যক মেয়েরা এ পেশায় আসত না। কিন্তু তার মনে হলো তিনি পারবেন এ পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে এবং সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেললেন। এরপর প্রায় ৬ বছর হয়ে গেল এ পেশায়। প্রথম দিকে কিছুটা কঠিন মনে হলেও এখন তার সংশয় কেটে গিয়েছে। কর্মক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের জটিলতাই এখন সহজে সমাধান করার উপায় বের হয়ে আসে। তিনি এই পেশা বেশ উপভোগ করছেন।
মাহফুজা মনে করেন, কয়েক বছর পূর্বেও আমাদের দেশে এই পেশার পরিধি বেশ কম ছিল, যা উত্তরোত্তর সম্প্রসারিত হচ্ছে। বর্তমানে মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, কাজের প্রচারণা বেশ জরুরি আর এ ক্ষেত্রে জনসংযোগ কর্মকর্তার ভূমিকা অপরিসীম। তাই এই পেশার চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রায় সব সরকারি দপ্তরে এই কর্মকর্তার পদটি রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় এ পদে নিয়োজিত ব্যক্তির অবস্থান সুসংহত। এ ছাড়াও জাতীয় পর্যায়েও বিভিন্ন সংস্থায় জনসংযোগ কর্মকর্তার স্থানটি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে এ পেশার ক্ষেত্রটি আগের তুলনায় অনেক বেশি
সম্প্রসারিত হচ্ছে।
নতুনদের কাজের সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে মাহফুজা বলেন, ‘নতুনরা প্রথমে কিছুটা সমস্যায় পড়বে কিন্তু ধীরে ধীরে তা কেটে যাবে। তাই বলে নিরুত্সাহিত হওয়ার কিছু নেই। সবার কাজ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ সে হোক দক্ষ বা হোক নবাগত।’
মাহফুজার শৈশব কেটেছে বরিশাল শহরে। বরিশালের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন। বাবা ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী আর মা গৃহিণী। মা-বাবা দু’জনেই প্রচণ্ড উত্সাহ দিতেন তার পড়ালেখাসহ সব কাজে। তার স্বামী একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সাংবাদিকতা পেশায় কর্মরত আছেন আর তাদের একমাত্র কন্যা শার্লিজ সেহরিন। মাহফুজা স্বপ্ন দেখেন, এ পেশায় আরও দক্ষ হয়ে নিজেই ভিন্নধর্মী কিছু করবেন আরও বৃহত্ পরিসরে এ পেশার মাধ্যমে সেবা প্রদান করতে।
