স্ত্রোস কান ও হোটেল বালিকার আপোষ

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২৮
নারী-সঙ্গের গোপন আসক্তি তার রাজনৈতিক জীবনের সম্ভাবনাকে খাদের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। এবার অর্থের বিনিময়ে স্বস্তি কিনলেন আন্তর্জাতিক অর্থ-তহবিলের সাবেক প্রধান স্ট্রোস-কান। সম্ভবত সেই অর্থের পরিমাণটাও বিপুল। আন্তর্জাতিক অর্থ-তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক প্রধান দমিনিক স্ট্রোস-কানের বিরুদ্ধে যৌন-নির্যাতনের অভিযোগ এনেছিলেন নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন হোটেলের এক নারী-কর্মী। ৩৩ বছর বয়সি নাফিসাতু ডিয়েলোর এই অভিযোগের কারণে চাকরি হারিয়েছেন কান। শুধু তাই নয়, সম্ভাবনা ছিল ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের। তাও নষ্ট হয়েছে এই যৌন-কেলেঙ্কারিতে। তবে আপাতত কিছুটা হলেও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন তিনি। মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে এই মামলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যাবতীয় আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পেয়েছেন কান। কিন্তু ফ্রান্সের আদালতে এখনো তাকে হাজিরা দিতে হবে। গত বছর মে মাসে নিউ ইয়র্কে আসেন কান। ম্যানহাটনের সফিটেল হোটেলে থাকাকালে হোটেলের নারী-কর্মী ডিয়েলোকে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন তিনি। ডিয়েলো অভিযোগ জানালে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযোগের সত্যতাও মেলে। স্বাভাবিকভাবেই চাপে পড়ে যান কান। বাধ্য হন আইএমএফ প্রধানের পদ ছেড়ে দিতে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে তার কথা ভাবা হলেও এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সেই সম্ভাবনাও নস্যাত্ হয়ে যায়। সম্প্রতি শুনানিতে কান উপস্থিত না থাকলেও হাজির ছিলেন ডিয়েলো। সবুজ জামা, কালো প্যান্ট ও ধূসর-সাদা স্কার্ফে অসম্ভব আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল তাকে। ডিয়েলোর উকিলও তার সাহসের প্রশংসা করেন। বিচার-ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখেছিলেন বলেই ডিয়েলো সুবিচার পেয়েছেন বলে তার দাবি। অর্থের বিনিময়ে যৌন-নির্যাতনের অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েও খুশি কান। আইনজীবীদের ধারণা—সাধারণত এমন ঘটনায় অভিযুক্তরা প্রবল অপরাধবোধে ভোগেন বলে অর্থের ব্যাপারে কোনো দরাদরি করেন না। তাই ক্ষতিপূরণের প্রকৃত পরিমাণ জানা না গেলেও তা যে মোটা অঙ্কের, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। স্ট্রাউস-কানের ব্যাপারে যৌন-নির্যাতনের অভিযোগ এটাই প্রথম নয়। চলতি বছরের অক্টোবরে ফ্রান্সের এক যৌনকর্মী তার বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন। যদিও অভিযোগকারি নারী পরে অভিযোগ তুলে নেয়ায় ব্যাপারটি চাপা পড়ে যায়। কান গ্রেফতার হওয়ার পর এক ফরাসি লেখিকা তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। তবে ২০০৩ সালের ওই ঘটনার আট বছর পর নতুন করে আর কোনো অভিযোগ নেয়া হয়নি। তবে পাল্টা প্রশ্ন ওঠে—লেখিকা কেন আগে অভিযোগ করেননি? তবে অর্থের বিনিময়ে অভিযোগ থেকে রেহাই পেলেও ফরাসিদের সন্দিগ্ধ দৃষ্টি থেকে এত তাড়াতাড়ি মুক্ত হবেন না কান। এক কিশোরী তো বলেই ফেলল, ‘কানের মুক্তি মেনে নেয়া যায় না। তার ওপর ফ্রান্সের মানুষ আর আস্থা রাখতে পারছে না।’