সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশর আল-আসাদের পতনের জন্য সশস্ত্র আন্দোলনের কারণে চলমান জনদুর্ভোগে নতুন হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে ক্ষুধা । চলমান তীব্র লড়াই এবং বিমান হামলার শিকার এলাকাগুলো, বিশেষত উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোয় এ সমস্যা প্রটক হয়ে উঠেছে। এসব এলাকায় দুমুঠো খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অধিবাসীদের। তাই ২০ মাস ধরে চলা সরকারবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে নতুন সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে ক্ষুধা। যুদ্ধ বিধ্বস্ত সালাহাদ্দিন এলাকার একজন অধিবাসীর উক্তি, ‘আমি গতকাল খবারের সন্ধানে বাইরে গিয়ে কোন খাবার পাইনি। শুধু খাদ্য সঙ্কটই নয়- জ্বালানি সঙ্কটও প্রকট। জ্বালানি ছাড়া বেকারিগুরো চলবে কি করে।’ ‘কয়েকদিন আগে জ্বালানির অভাবে বেকারিকর্মীরা ময়দার প্যাকেট বিক্রির চেষ্টা করেছে। লোকজন খাবারে জন্য মারামারি, হাতাহাতি শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদ্রোহীদেরাকে ফাঁকা গুলি ছুড়তে হয়েছে’, বলেন তিনি। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। সামপ্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রতিদিন ১শ’র বেশি এবং কোন কোন দিন ২শ’র বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিওএফপি) জানিয়েছে, এই শীতে সিরিয়ার লাখ লাখ মানুষ খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমাগত নাজুক হওয়ায় সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। চেক রিপাবলিকের বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন ‘পিপল ইন নিড’(পিআইএন) জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো ত্রাণ পৌঁছাতে না পারলে পরিস্থিতি আরো শোচনীয় হয়ে উঠতে পারে। পিআইএন এর হিসাবমতে, আলেপ্পার মোট ৪০ লাখ অধিবাসীর মধ্যে বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছে ১০ থেকে ২০ লাখ মানুষ। শুধু আলেপ্পোতেই লাখো মানুষের খাদ্য প্রয়োজন বলে ধারণা প্রকাশ করেছেন পিআইএন এর এক কর্মকর্তা।
জিয়া আহমেদ
