বিতর্কিত দ্বীপমালার মালিকানা নিয়ে জাতিসংঘে চীন

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৩৩
পূর্ব চীন সাগরের বিতর্কিত দ্বীপমালার মালিকানা দাবী করে জাতিসংঘের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পেশ করেছে চীন। দ্বীপগুলোর মালিকানা নিয়ে প্রতিবেশী জাপানের সঙ্গে চীনের বিরোধ চলছে। শুক্রবার পেশ করা এই দাবীতে চীন জাপানের নিকটবর্তী ওই দ্বীপগুলোর ওপর নিজ মালিকানার ভূতাত্ত্বিক ও নৃতাত্ত্বিক প্রমাণ উপস্থাপন করেছে বলে চীনের রাষ্ট্রিয় গণমাধ্যম সিনহুয়ার প্রতিবেদন সূত্রে জানিয়েছে বিবিসি অনলাইন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নৃতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট ও ভূতাত্ত্বিক উপাদানগুলো সাক্ষ্য দেয় পূর্ব চীন সাগরের মহীসোপানটি চীনের প্রাকৃতিক ভূখ-ের একটি প্রলম্বিত অংশ।’ ‘পূর্ব চীন সাগরে চীনা মহীসোপানের প্রাকৃতিকভাবে প্রলম্বিত এই অংশটি জাপানের ওকিনাওয়া খাদ পর্যন্ত বিস্তৃত, যা (ওকিনাওয়া খাদ) ভৌগলিক সীমা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।’ জাতিসংঘে পেশকৃত দাবীতেও এমনটিই বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিনহুয়া। চীনের এই দাবি জাতিসংঘের ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের একটি কমিশন পরীক্ষা করে দেখবে। তবে বিষয়টি নিষ্পত্তির ক্ষমতা তাদের নেই। জাপানে সেনকাকু ও চীনে দিয়ায়ু নামে পরিচিত এই দ্বীপগুলোর মালিকানা নিয়ে জাপান ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর মধ্যে তিনটি দ্বীপ গত সেপ্টেম্বরে জাপানি ব্যক্তিমালিকানা থেকে দেশটির সরকার কিনে নিতে চাইলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে চীন। একে কেন্দ্র করে চীনের বেশ কয়েকটি শহরে জাপান-বিরোধী তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর থেকে কয়েকটি চীনা জাহাজ বিতর্কিত দ্বীপগুলোর জলসীমায় প্রবেশ করে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। জাপানের সতর্কবাণী সত্ত্বেও তারা বিতর্কিত ওই জলসীমায় অবস্থান চালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার চীনের একটি সরকারী বিমান বিতর্কিত দ্বীপগুলো আকাশসীমায় প্রবেশ করে এই উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করে। প্রতিক্রিয়ায় ওই এলাকায় যুদ্ধবিমান পাঠায় জাপান। এরপর দুইপক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পরস্পরের আকাশসীমা লঙ্ঘণের অভিযোগ তোলে। বিতর্কিত এই দ্বীপগুলোর অবস্থান জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের উপকূল থেকে ২০০ কিলোমিটার এবং এবং চীনের বিশেষায়িত বাণিজ্যিক এলাকা থেকে ৩৭০ কিলোমিটার দূরে। জাপানের দখলে থাকা এসব দ্বীপ দেশটির ওকিনাওয়া জেলার অর্ন্তভূক্ত। দ্বীপগুলোর কাছাকাছি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নৌপথ আছে। দ্বীপগুলোর চারপাশের জলসীমা সমৃদ্ধ মত্সচারণ ক্ষেত্র আর এখানে খনিজ তেলের মজুদ আছে বলে ধারণা করা হয়। চীন-জাপানের প্রতিবেশী তাইওয়ানও দ্বীপগুলোর মালিকানার অন্যতম দাবীদার। বিপুল আহমেদ