গফরগাঁওয়ের লঞ্চঘাটা বধ্যভূমি কালের নীরব সাক্ষী

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৩
এখানে এসে থমকে যান মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে এখানে ব্রহ্মপুত্রের পশ্চিমপাড়ে এসে ভিড়তো পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর লঞ্চ। রাজাকারদের সহায়তায় গফরগাঁওয়ের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ধরে আনা হতো মুক্তিযোদ্ধাদের। লঞ্চের ভিতরে চালানো হতো নিষ্ঠুর নির্যাতন। অবশেষে চোখ, হাত বেঁধে দাঁড় করিয়ে রাইফেলের গুলিতে ঝাঁঝরা করা হতো মুক্তিযোদ্ধাদের বুক। এখানে প্রতিদিন শোনা যেতো গুলির শব্দ, গগনবিদারী আর্তচিত্কার। অবশেষে ভয়ংকর নিস্তব্ধতা। এখানে এই বধ্যভূমিতে ব্রহ্মপুত্রের পাড়ের পানিতে ভাসতো মুক্তিযোদ্ধাদের লাশ। লাশগুলো এমনকি কবর দেয়ারও কোন সুযোগ হতো না। ২০০৬ সালের ১৭ মার্চ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাকে “লঞ্চঘাটাঃ গফরগাঁওয়ের আরেক বধ্যভূমি” শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর উপরোল্লিখিত কথাগুলো লেখা হয়েছিল লঞ্চঘাটা বধ্যভূমি আবিষ্কার করে সেখানে স্থাপিত স্মৃতিফলকে। দৈনিক ইত্তেফাকে লঞ্চঘাটা বধ্যভূমির ভয়াল স্মৃতি বিজড়িত ঘটনা প্রবাহের প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর তত্কালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গৌতম কুমারের বিশেষ উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের ৩৪ বছর পর এখানে স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয় এবং ২৬ মার্চ ২০০৬ মহান স্বাধীনতা দিবসে প্রথমবারের মত সাধারণ জনতা এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পাশাপাশি উপজেলাবাসী ’৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধে লঞ্চঘাটা বধ্যভূমিতে পাকিস্তানী হানাদার ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আল-বদরদের নৃশংসতা সম্পর্কে জানতে পারে। এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার ২০১০/১১ অর্থ বছরে প্রায় ৪ লাখ টাকা ব্যয় ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে।