চলছে শীতকাল। অনেকের কাছেই এই সময়টি খুব পছন্দের হলেও নানা রকম ঝামেলারও অন্ত থাকে না শীতকালে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ধুলোর সমস্যা। শীতকালে বাড়িঘরে ধুলোর আস্তরণ জমে ওঠে। ধুলোর এই সমস্যা যাতে প্রকট আকার ধারণ করতে না পারে, সে জন্য শীতের শুরুতেই বাড়িঘর পরিষ্কার করে নিন।
ধুলো-ময়লা পরিষ্কার করার সময় ঘরের উপরের অংশ থেকে পর্যায়ক্রমে নিচের দিকটা পরিষ্কার করুন। সিলিংফ্যান পরিষ্কার করে সবশেষে সোফা ও মেঝে পরিষ্কার করুন।
ফ্যান পরিষ্কার করার আগে বিছানা ও অন্যান্য আসবাবে পুরোনো খবরের কাগজ বিছিয়ে দিন। ভেজা পেপার টাওয়াল নিয়ে ফ্যানের গায়ে লেগে থাকা ময়লা পরিষ্কার করুন। নরম ব্রাশ সাবান-পানিতে ভিজিয়ে সেটা দিয়ে ফ্যানের ব্লেড হালকা করে ঘষুন। সবশেষে ভেজা টাওয়াল দিয়ে মুছে ফেলুন।
ঘরের কোণে জমে থাকা ঝুল খাটের নিচের ধুলো, সোফার কোনায় ময়লা ইত্যাদি পরিষ্কারে ভ্যাকুয়াম ক্লিনারই উত্কৃষ্ট। একান্ত সম্ভব না হলে ঝাড়ু ব্যবহার করুন।
কম্পিউটার, টিভি, ডিভিডি প্লেয়ার ইত্যাদি ইলেক্ট্রনিক্স সরঞ্জামের ধুলো পরিষ্কারের আগে বিদ্যুত্-সংযোগ বিচ্ছন্ন করুন। তারপর নরম সুতি কাপড় অথবা লম্বা হাতলের নরম ব্রাশ দিয়ে ধুলো ঝেড়ে ফেলুন। ক্যাবলের ধুলোও পরিষ্কার করে ফেলুন।
ছোটদের টেডিবিয়ার ধরনের পুতুল, খেলনা পরিষ্কার রাখা জরুরি। এসব স্থানের জমে থাকা ধুলো থেকে শিশুর অ্যালার্জি হতে পারে। বড় প্লাস্টিকের ব্যাগে এসব খেলনা ভরে তার মধ্যে এক কাপ বেকিং পাউডার দিন। ব্যাগের মুখ বন্ধ করে ভালো করে ঝাঁকান। তারপর খেলনাগুলো বের করে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
রেফ্রিজারেটর পরিষ্কার করার আগে প্লাগ খুলে নিন। এরপর ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে ঝেড়ে ফেলুন এবং হালকা গরম পানিতে সাবান মিশিয়ে মুছে নিন। সবশেষে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন।
ক্যাবিনেট, কাবার্ড, শেল্ফ পরিষ্কার করতে হালকা গরম পানিতে কাপড় ডুবিয়ে মুছে ফেলুন। পানিতে কয়েকটা নিম পাতা দিয়ে দিলে পোকা-মাকড়ের উপদ্রব থেকে রেহাই পাবেন।
পর্দা, বেডশিড, বালিশের কভার ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে নিন অথবা ড্রাই ক্লিন করুন।
মডেল ফারিয়া শবনম
ছবি দীপঙ্কর দীপু
বয়স্কদের জন্য খাদ্যাভ্যাস
শারীরিক অবস্থা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বয়স সরাসরি প্রভাব ফেলে থাকে। তাই বয়স্কদের জন্য কিছু খাবারের টিপস—
খাবারে কী কী রাখতে পারেন
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ক্ষয় বৃদ্ধি পায়। এ জন্য বয়স্কদের অনেক সমস্যার মধ্যেও পড়তে হয়। তাই হাড়ের ক্ষয়রোধের জন্য ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন—তিল, ডুমুর, ছানা সব সময় বাসায় রাখতে পারেন এবং ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করুন। দুধ সহ্য না হলে দই খেতে পারেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে একটা আমন্ড খান।
বাদাম জাতীয় খাবার হার্টের জন্য ভালো। সে জন্য পেস্তা, আমন্ড, আখরোট ইত্যাদি খাবার খেতে পারেন। ড্রাই ফ্রুটসের মধ্যে খেজুর, ডুমুর ইত্যাদি মাঝেমধ্যে খেতে পারেন।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা কারণে অনেকের অ্যানিমিয়ার সমস্যা দেখা যায়। সেই সমস্যা কম রাখতে শুকনা খাবার সাহায্য করে।
পানি শরীরের জন্য অনেক উপকারী। তাই বেশি পরিমান পানি খেতে কখনোই ভোলা যাবে না। দিনে অন্তত ২ লিটার পানি খাবেন।
ফল ও সবজিতে ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্রিডেন্ট রয়েছে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এগুলো শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে।
বয়স্কদের অনেকের দাঁতের সমস্যা দেখা দেয়। তাদের জন্য তরল এবং সেমি সলিড খাবার যেমন স্যুপ, খিচুরি, জুস এগুলো ভালো।
প্রতিদিন সকালে হাঁটতে পারলে খুব ভালো হয়। প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট রোদের সংস্পর্শে থাকা দরকার। ক্যালশিয়ামের অভাব পূরণের জন্য খুব ভালো কাজ করে।
হাড় কাঁপানো শীতে রুম হিটার
হাড় কাঁপানো শীত মোকাবেলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এখনই। যাদের ঠাণ্ডাজনিত রোগ; যেমন_ হাঁপানি, অ্যাজমা, কোল্ড অ্যালার্জি আছে তাদের জন্য উষ্ণতার প্রয়োজন। আর যদি আপনার বাসায় কোনো নবজাতক কিংবা ছোট শিশু থাকে তবে আপনার জন্য রুম হিটার খুবই প্রয়োজন। রুম হিটার পাবেন বিভিন্ন আকারের এবং বিভিন্ন দামের।
আধুনিক যুগে রুম হিটার এক বিস্ময়কর সৃষ্টি! যদিও সত্তরের দশকে এর সহজলভ্য ও প্রচলন বৃদ্ধি পায় এবং নব্বই দশকের মধ্যে পুরো পৃথিবীতে এর ব্যবহার ব্যাপকতা পায়। আর আমাদের দেশে এর ব্যবহার শুরু হয় ১৫-১৬ বছর আগে। বর্তমানে বাংলাদেশে এটি বহুল প্রচলিত ও ব্যবহূত।
রুম হিটার সাধারণত একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র। এর ব্যবহার হয় শীতে। কেননা শীতের হিমেল হাওয়া যখন সবাইকে কাবু করে, ঠিক তখনই প্রয়োজন হয় রুম হিটারের। রুম এবং শীত বুঝে চালু করা হয় এটি। এটি সাধারণত বাসা-বাড়িতে শীত থেকে রক্ষা পেতে এবং আরামপ্রদ পরিবেশ পাওয়ার জন্য এক ধরনের বৈদ্যুতিক তাপ উত্পাদক যন্ত্র। আপনার ঘরের আয়তন বুঝে সহজেই নির্ধারণ করতে পারবেন কত ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রুম হিটার আপনার প্রয়োজন। সাধারণত ১ হাজার ওয়াট থেকে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার ওয়াট পর্যন্ত রুম হিটার খুঁজে পাওয়া যাবে বাজারে। এর মধ্যে বুঝে নিতে হবে কার জন্য কোনটি ভালো। পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী আপনি রুম হিটার কিনুন। আপনি নিজের মতো ওয়াট দিয়ে রুম হিটার চালান। আবার অনেকে বিদ্যুত্ বিল বেড়ে যাওয়ার ভয়ে হয়তো এই শীতে কষ্ট পাওয়ার পরও রুম হিটার কিনতে চান না। যদিও রুম হিটার সাধারণত শীত মৌসুমের একটি যন্ত্র, তারপরও এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বর্তমানে রুম হিটার থাকলে আপনার রুম সব সময় গরম থাকবে, তাই রুম হিটার সবারই প্রয়োজন। মাত্র ৩-৪ ঘণ্টা চালিয়ে রাখলেই যথেষ্ট। শীতের কয়েকদিনই শুধু এর ব্যবহার হয়। রুম হিটার যদি দুই হাজার ওয়াট দেওয়া থাকে তারপর আপনার রুম সম্পূর্ণ গরম হলে আপনি ওয়াট কমিয়ে এক হাজার করলে আপনার রুমের তাপমাত্রা ঠিক থাকবে। অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রের মতো এটিও ব্যবহার করা যায়। রুম হিটার সীমিত সময় চললেই রুম গরম হয়ে যায়। তাই সারাক্ষণ এটি চালানোর প্রয়োজন নেই।
বড়দিনের উপহার
বড়দিনের উপহার কেনার জন্য বিভিন্ন গিফট শপগুলোতে ঢুঁ মারতে পারেন। এসব দোকানে ক্রিসমাস আর নতুন বছরকে ঘিরে থাকছে বিশাল গিফট আইটেমের সম্ভার। এ ছাড়া ফ্যাশন হাউসগুলোতেও পাওয়া যাবে নতুন বছরের জন্য নতুন উপহার সামগ্রী। যদি ক্রিসমাসকে উপলক্ষ করে উপহার দিয়ে চমকে দিতে চান তাহলে আস্ত একটা ক্রিসমাস ট্রি উপহার দিতে পারেন। সেই সাথে থাকতে পারে আনুষাঙ্গিক কিছু উপকরণ। ক্রিসমাস ট্রি কিনতে যেতে পারেন ঢাকার হাতিরপুলে অবস্থিত হলমার্ক, আর্চিস কিংবা আইসকুলে। এ ছাড়া চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটেও পাওয়া যাবে এমন কিছু ক্রিসমাস গাছ। গাছ সাজানোর জন্য প্রয়োজনীয় রসদও পাবেন এখানে। এসব গাছের দাম শুরু হয় ১৫শ থেকে। পাবেন হাজার দশেক টাকার গাছও। ক্রিসমাসের উপহারের আর একটা বড় সংগ্রহ থাকছে আড়ংয়ে। এখানেও পাবেন সব চমত্কার ক্রিসমাস উপহার সামগ্রী। উপহার হিসেবে বরাবরই শুভেচ্ছা কার্ড সব সময় জনপ্রিয় একটি উপহার। হলমার্ক, আরচিস, আইসকুল ছাড়াও এলাকার ছোট ছোট দোকানগুলোতেও পাওয়া যাবে শুভেচ্ছা কার্ড। তবে প্রিয়জনকে কার্ড উপহার দেওয়ার জন্য একটা ভিন্ন পথও অবলম্বন করতে পারেন। নিজেই তৈরি করতে পারেন নিজের হাতে বানানো শুভেচ্ছা কার্ড। এর জন্য বিভিন্ন ধরনের হ্যান্ডমেইড পেপার ব্যবহার করতে পারেন। এ ধরনের হ্যান্ডমেইড পেপার পাওয়া যাবে ঢাকার আজিজ সুপার মার্কেট, নিউমার্কেট ও ইস্টার্ন প্লাজায়। স্বচ্ছ কিছু হাতে তৈরি কাগজ কিনতে পারবেন ইস্টার্ন প্লাজার নিচ তলার বেশ কিছু দোকানে। এ ছাড়া চাইলে গিফটও নিজে তৈরি করে উপহার দিতে পারেন। বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন রঙিন চকচকে ক্রিসমাস বল, পুতুল, চাঁদ, তারা ইত্যাদি। এ ছাড়া হাতে বানানো কাপড়ের পুতুল, গয়নার বাক্স, রঙিন মোম এসবও হতে পারে চমত্কার উপহার সামগ্রী।
