দামেস্কে ফিলিস্তিন শিবিরে জঙ্গি বিমানের হামলা, নিহত ২৫

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:১৭
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের ইয়ারমুক ফিলিস্তিন শিবিরে রোববার জঙ্গি বিমান হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছে। মসজিদে আশ্রয় নেয়া লোকজনদের ওপর এ হামলা হয় বলে জানিয়েছে সরকারবিরোধী আন্দোলনকর্মীরা। আশ্রয় শিবিরের মসজিদে রকেটের আঘাতে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমাচ্যুত করার লক্ষ্যে দামেস্কে লড়াইরত বিদ্রোহীদের হটাতে মাসব্যাপী সরকারি সেনাদের চালানো হামলার অংশ হিসাবে এ বিমান হামলা চালানো হয়েছে। দামেস্কের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অভিমুখী রাস্তায় বিদ্রোহীদের ওপর জঙ্গি বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপের একদিন পর এ হামলার ঘটনা ঘটল। যুদ্ধবিমান থেকে রকেট হামলায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইয়ারমুক শিবিরের মসজিদটিতে কমপক্ষে দুটো রকেট আঘাত হেনেছে। রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্রোহীদের সাথে সরকারি বাহিনীর যুদ্ধে যারা স্থানচ্যুত হয়েছেন তারাই এই শিবিরটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বিদ্রোহীরা বলছেন যে, এই প্রথম এই শিবিরটিতে রকেট হামলা চালানো হলো। তবে প্রেসিডেন্ট আসাদপন্থি একজন সংসদ সদস্য শরিফ শেহাদা বলছেন যে, জঙ্গিরাই এই হামলা চালিয়েছে। সিরিয়াতে আছে প্রায় ৫০ লাখের মতো ফিলিস্তিনি। তাদের কেউ প্রেসিডেন্ট আসাদ সরকারকে আবার কেউ সরকারবিরোধী বিদ্রোহীদের সমর্থন করছে। এই ইয়ারমুক শিবিরে এর আগেও হামলা করা হয়েছে। গত আগস্ট মাসে এরকম একটি হামলায় নিহত হয়েছে অন্তত কুড়িজন। সংবাদদাতারা বলছেন যে, রাজধানী ও তার আশেপাশে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইয়ারমুখে হামলার পর ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা ঐ এলাকায় ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নেয়। তাতে নারী এবং শিশুরাও যোগ দেয়। এদিকে, সিরিয়ায় সরকার কিম্বা বিরোধী-কোন পক্ষই যুদ্ধে চূড়ান্ত জয় পাবে না বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট। ফারুক আল শারা সরকারপন্থি লেবানীজ একটি সংবাদপত্রকে দেয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন, চলতি সঙ্কট কাটাতে সিরিয়ায় প্রয়োজন জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করা। সংবাদদাতারা বলছেন, সিরিয়ায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা এর আগে এতোটা স্পষ্ট করে স্বীকার করেননি যে তারা এই যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারবেন না। তবে সংবাদদাতারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে মি. আল-শারার ব্যাপারে এর আগেও ভুল খবর প্রচার করা হয়েছে।