বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলাচলে সুদানের বিক্ষোভকারীরা

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৯, ২২:১০

অলক বিশ্বাস

 

আফ্রিকার দেশ সুদানে সামরিক অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরের পদত্যাগের পরও উত্তাল রাজধানী খার্তুম। ওমর আল বশিরকে সরিয়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর এখন বেসামরিক সরকারের দাবিতে রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা। বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য গত বৃহস্পতিবার রাজধানী খার্তুমে ১০ লাখ মানুষের সমাবেশ করেছে বিক্ষোভকারীরা। তবে এখন পর্যন্ত বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা সামরিক কাউন্সিলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা দিয়েছে যতদিন সমস্যার সমাধান না হবে প্রয়োজনে ততদিন রাজপথে থাকবেন তারা।

জ্বালানি ও রুটির দাম বৃদ্ধির এক সরকারি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সুদানে বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে সরাতে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন বিক্ষোভকারীরা। ১১ এপ্রিল সকালে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন সামরিক কাউন্সিলের প্রধান আওয়াদ ইবনে আউফ। তবে তাকেও বশিরের ঘনিষ্ঠ আখ্যা দিয়ে রাজপথে অবস্থান ধরে রাখে বিক্ষোভকারীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনিও পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ইতিমধ্যে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সামরিক পরিষদ। তারপরও সামরিক সদর দফতরের সামনে বেসামরিক সরকারের দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে ‘স্বাধীনতা’ ও ‘বিপ্লব’ বলে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর নির্বাচন দেবে তারা। তবে তা অস্বীকার করে রাস্তায় অবস্থান ধরে রেখেছেন বিক্ষোভকারীরা। যদিও আন্দোলনকারীদের দাবিরমুখে ইতিমধ্যে পিছু হঠতে শুরু করেছে সামরিক সরকার। ১০ সদস্যের সামরিক কাউন্সিলের অন্তত তিনজন সদস্য ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আন্দোলনকারীদের সমর্থন জানিয়েছে। যদিও ‘অন্তর্বর্তীকালীন বেসামরিক সরকার’ গঠনের উদ্দেশ্যে সামরিক সরকারের প্রতিনিধি এবং বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিরা বেশ কিছু ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। সামরিক সরকারের হাত থেকে বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। এর জন্য একটি যৌথ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে যেখানে সামরিক সরকারের প্রতিনিধির পাশাপাশি বেসামরিক প্রতিনিধিরা থাকবেন। কিন্তু এই যৌথ কমিটির নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি উভয়পক্ষ। সামরিক সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশের শান্তি এবং নিরাপত্তার বিষয়টি সেনাবাহিনীর হাতে সুরক্ষিত, তাই যৌথ কমিটির প্রধান সামরিক বাহিনী থেকেই আসা উচিত। তারা আরো প্রস্তাব দেয়, দেশ পরিচালনার জন্য যে বেসামরিক সরকার করা হবে সেখানে একজন বেসামরিক প্রধানমন্ত্রী থাকবেন; যিনি দেশের প্রতিদিনের রুটিন বিষয়গুলো দেখবেন। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের দাবি, সরকার ব্যবস্থার বাইরে থাকতে হবে সেনাবাহিনীকে। দেশ রক্ষা করা সেনাবাহিনীর দায়িত্ব, সীমান্ত রক্ষা করা সেনাবাহিনীর দায়িত্ব। কিন্তু দেশের নেতৃত্ব দেওয়া, দেশ পরিচালনা করা বেসামরিক নির্বাচিত সরকারের হাতে থাকা উচিত।