গুরুদাসপুরে নিহত ১৬ পরিবার আজও শহীদের মর্যাদা পায়নি

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:১৩
দেশব্যাপী স্বাধীনতাযুদ্ধের ঘনঘটা। মুক্তিকামী মানুষ লড়ছেন পাক সেনাদের বিরুদ্ধে। সচেতন টগবগে কিছু তরুণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে বাড়ি ছেড়েছেন অনেক আগেই। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিলের কথা। মাথার ওপর বৈশাখী সূর্যের উত্তাপ। এলাকার বেশকিছু শিক্ষিত, আধা শিক্ষিত, অশিক্ষিত তরুণ যুবক একটি গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে দেশের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গল্পে মেতে উঠেছেন। তাদের মনে পাকসেনার ভীতি ছিল না তখনও। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাকসেনাদের বহনকারী একটি গাড়ি ঢুকে পড়ে গুরুদাসপুরে। পথে একসাথে বেশকিছু মানুষের সমাগম দেখে ঘিরে ধরে পাকসেনারা। সাথে সাথে আশেপাশের বাড়ি থেকে তরুণ যুবকদের বের করে আনা হয়। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই সবাইকে একসাথে চোখ ও হাত বেঁধে লাইনে দাঁড় করিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায় পাকবাহিনী। সাথে সাথে ঘটনাস্থলেই ১৬ জন যুবক নিহত হয়। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ও সুনীল কুমার গুহ। বেঁচে যাওয়া সুনীল গুহই সেই গণহত্যার গল্প শোনান এই প্রতিবেদককে। গণহত্যাটি ঘটে গুরুদাসপুর থানার অদূরে উত্তর নারীবাড়ী মহল্লার রাস্তা সংলগ্ন ব্র্যাক অফিসের সামনে। নিহতরা হলেন, শীতানাথ হালদার, বলরাম হালদার, নীল রতন সরকার, নবরাম মজুমদার, ডা. মনিন্দ্রনাথ সরকার, দিলীপ কুমার সরকার, সুরেশ চন্দ্র মালাকার, মানিকচন্দ্র মালাকার, বিষ্টপদ ঘোষ, সুধীর চন্দ্র হালদার, সুবোধ চন্দ্র হালদার, যদুনাথ কর্মকার, দুখুরাম হালদার, দুলাল মালাকার, গেদু মালাকার ও বাদল চৌধুরী। প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়, পাকবাহিনী তাদের হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি। যাওয়ার সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাড়িঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। তারপর থেকেই পরিবারগুলোর দৈন্য-দশা শুরু হয়। এখন পথে বসেছে ওইসব পরিবার। আজও দেয়া হয়নি ওই পরিবারগুলোকে শহীদের মর্যাদা। আদৌ পায়নি সরকারি কোন অনুদান। শহীদ সুরেশ চন্দ্র মালাকারের পুত্র সুবল চন্দ্র মালাকার বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতে বিভিন্ন জাতীয় উত্সবে তাদের ডাকা হত এবং তার মৃত্যুর পরে ২০০৯ সালের ২৬ নভেম্বরে একটি অনুষ্ঠানে শেষবারের মত তাকে দাওয়াত করা হয়। তারপরে বর্তমানে আর কেউ কোন খোঁজ-খবর নেন না। একটি শহীদ পরিবারের সন্তান রবি হালদার চা ষ্টল দিয়ে কোনরকম জীবিকা নির্বাহ করছেন। তার মা শহীদ সুধীর হালদারের স্ত্রী বর্তমানে বৃদ্ধ বয়সে বিভিন্ন বাড়িতে ঝিগিরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানায়, শহীদ দিলীপ কুমার সরকারের বাবা সুধীরচন্দ্র সরকার নিজ খরচে শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে শহীদ মিনার তৈরি করলেও তা সরকারিভাবে রক্ষণা-বেক্ষণের কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি আজও। যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মাজেদা ইয়াসমীন গণকবরগুলোর দৈন্য-দশার কথা নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি বরাদ্দ না থাকায় সংস্কার হয়নি।