পুলিশ অফিসার শাহজাহান

বোমা হামলায় আহত এসআই শাহজাহান মারা গেছেন

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৩
থানার মালামাল অন্যায়ভাবে নিলামে তুলে বিক্রিতে বাধা দেয়ায় ওসি ও সেকেন্ড অফিসার পরিকল্পিতভাবে তার ওপর বোমা ছুঁড়েছেন। এমন জবানবন্দি দিয়ে গেছেন নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার এসআই শাহজাহান। গতকাল সোমবার ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সাহসিকতার সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য এসআই শাহজাহান পেয়েছিলেন পিপিএম পদক। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর পুলিশের চাকরি করার পর সহকর্মীদের ঘৃণ্য চক্রান্তের শিকার হয়ে তাকে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের শাহজাহানের স্ত্রী লায়লা বেগমের বড় ভাই আবুল হোসেন জানান, শাহজাহান বন্দর থানার এসআই-এর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি থানার মালখানার দায়িত্বে ছিলেন। মালখানায় গত ৫০ বছরের অনেক মূল্যবান মালামাল ছিল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এসব মালামাল থানার ওসি নূর মোহাম্মদ বেপারী ও সেকেন্ড অফিসার বিনয় কৃষ্ণ ধর বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। অন্যায়ভাবে মালামাল বিক্রিতে বাধা দেয়ায় শাহজাহানের সঙ্গে ওসি ও সেকেন্ড অফিসারের বিরোধ ছিল। আর এ বিরোধের জের ধরেই ওসি ও সেকেন্ড অফিসার মিলে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শাহজাহানকে হত্যা করেছেন। মৃত্যুর আগে শাহজাহান এ সংক্রান্ত জবানবন্দিও দিয়ে গেছেন পুলিশের কাছে। শাহজাহানের জবানবন্দির ভিডিও ফুটেজ এখন নারায়ণগঞ্জ পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হাতে। এ ব্যাপারে বন্দর থানার ওসি নূর মোহাম্মদ বেপারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় থানার ভেতরে রহস্যজনকভাবে বিকট শব্দে ঘটা বিস্ফোরণে এসআই শাহজাহান দগ্ধ হন। তাকে প্রথমে শহরের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও পরে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। তার শরীরের অনেক অংশ পুড়ে যায়। সোমবার ভোর ৪টায় তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ওসি। টাঙ্গাইলে দাফন সম্পন্ন আমাদের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ও মির্জাপুর সংবাদদাতা জানান, গতকাল বিকালে শাহজাহানের লাশ তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের পাঁচ চামারি গ্রামে নেয়া হয়। নামাজে জানাজা শেষে তার লাশ গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। শাহজাহানের চাচাতো ভাই হুমায়ুন পাশা দিলু জানান, চার ভাই, এক বোনের মধ্যে শাহজাহান ছিলেন তৃতীয়। শাহজাহানের এক ছেলে শুভ্র আহম্মেদ এ বছর এইচএসসি পাস করেছে। মেজো মেয়ে ময়না ঢাকার সরকারি বাঙলা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ছোট মেয়ে জয়ার বয়স নয় বছর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তিকে হারিয়ে পুরো পরিবারটি এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। শাহজাহানের ভাই রঞ্জু বলেন, তার ভাই সবকিছু বলে গেছেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। শাহজাহান ঢাকার সুত্রাপুর, পল্লবী, মিরপুর, রমনা, খিলক্ষেত, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন শেষে সমপ্রতি বন্দর থানায় বদলি হয়ে যান। তিনি অভিযোগ করেন থানার ওসির প্রত্যক্ষ মদদেই গত বৃহস্পতিবার থানার ভিতরে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে তার দিকে বোমা ছুঁড়ে মারা হয়।