বগুড়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৪
বগুড়া শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্মআহ্বায়ক খায়রুল আনাম রেক্কাতকে (৩৫) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া চারটি গুলি তার মাথা, বুক ও হাতে বিদ্ধ হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানেই মারা যান তিনি। নিহত রেক্কাত রহমান নগর এলাকার আব্দুল কাইয়ূম অফার ছেলে । গতকাল সোমবার বেলা পৌণে ১২টার দিকে শহরের রহমান নগরের আব্দুল জব্বার ক্লাব মোড়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স রেক্কাত ট্রেডার্স’-এ বসেছিলেন । এসময় মোটর সাইকেলে দু‘জন যুবক সেখানে গিয়ে অকস্মাত্ গুলি চালায়। এদিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রেক্কাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে বগুড়ার সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিয়াজ উদ্দিন জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, একই এলাকার আরিফ ওরফে লম্বু আরিফের সাথে দলীয় পদ ও এলাকায় আধিপত্য নিয়ে রেক্কাতের কোন্দল চলে আসছিল। ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে তার লাশ বগুড়া শহরের সাতমাথায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে নিয়ে আসা হয়। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীরা তার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বগুড়া শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক শহীদুল ইসলাম বাপ্পী জানান, রহমান নগর এলাকার লম্বু আরিফ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য। তবে তার সাথে দলীয় পদ নিয়ে নিহত রেক্কাতের কোন বিবাদ বা এলাকায় আধিপত্য নিয়ে কোন্দলের বিষয়টি দলের কেউ অবগত নয়। স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্র জানায়, রহমান নগর এলাকায় দীর্ঘদিন থেকেই রেক্কাতের সাথে নাসিম ও আরিফ গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর আগে গত ১অক্টোবর পুলিশ নাসিম গ্রুপের কয়েকজনকে বেশ কিছু ধারালো অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) ছকিরউদ্দিন ভুঁইয়া দাবি করেন অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এদিকে রেক্কাতকে হত্যার প্রতিবাদে এবং খুনীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে গতকাল সোমবার বিকেলে শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।