সিপিবি-বাসদের সকাল সন্ধ্যা হরতাল আজ

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৬
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সারাদেশে আজ মঙ্গলবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে। কয়েকটি ক্ষুদ্র দলের সমন্বয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা এই হরতালে সমর্থন দিয়েছে। জামায়াতসহ সকল সামপ্রদায়িক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ, একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার কাজ দ্রুত সম্পন্ন এবং জনজীবনে বিরাজমান নানা সমস্যা দূর করার দাবিতে সিপিবি ও বাসদ গত ৭ ডিসেম্বর এই হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করে। দেশে ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি নিষিদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত শেষ করা ছাড়াও আজকের এই হরতালের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে- বিদ্যুত্ ও জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ, আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত মালিকসহ দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচার, সকল পোশাক কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন চালু ও শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদান। এসব দাবিতে গত ১৫ ডিসেম্বর বাম দলগুলো রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। আমাদের সিনিয়র রিপোর্টার জানান, আজকের হরতালের সমর্থনে জাতীয় পতাকা হাতে রাজপথে থাকার জন্য সিপিবি ও বাসদের পক্ষ থেকে দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থক ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয় মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই আহ্বান জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্যে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ বলেন, আজ অহিংস কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে হরতালকে গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান তারা। আজ শাস্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে তারা হরতাল সম্পর্কে জনমনে ইতিবাচক নজির সৃষ্টি করতে চান। সাংবাদিক সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, আহসান হাবিব লাবলু, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশিদ ফিরোজ, সিপিবির কেন্দ ীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, ও বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন প্রমুখ। কেউ না জানলেও গতকাল অর্ধদিবস হরতাল ছিল গতকাল সোমবারও শুধু ঢাকায় একটি হরতালের কর্মসূচি ছিল। এর সময়সূচি ছিল সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। তবে গতকালও যে একটি অর্ধদিবস হরতাল ছিল তা হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া নগরবাসীর কেউ-ই জানতেন না, টেরও পাননি। রাজধানীর চিত্রেও হরতালের বিন্দুমাত্র ছাপ ছিল না। বরং দু’একজনের মুখে হরতাল থাকার কথা শুনে অনেককে বিস্মিত হতে দেখা গেছে। আর এই হরতালটি ডেকেছিল ‘গড়বো বাংলাদেশ বিপ্লবী দল’ ও ‘গড়বো বাংলাদেশ পার্টি’ নামের দুটি সংগঠন। রাজনীতি থেকে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার অবসর গ্রহণের দাবিতে তারা এই হরতাল ডাকে, তবে তা সীমাবদ্ধ ছিল প্রেস বিজ্ঞপ্তির মধ্যেই। এমনকি হরতাল পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলন করে ‘গড়বো বাংলাদেশ বিপ্লবী দল’ এর উদ্যোক্তা ও মুখপাত্র ড. শাহেদা হরতালে ‘সমর্থন’ দেয়ার জন্য ঢাকাবাসীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।