নারীর ক্ষমতায়নে অনেক পিছিয়ে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ইতিহাস গড়বেন পার্ক গিউন হাই (৬০)। দেশটিতে আজ বুধবার অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচিত হলে পার্ক হবেন দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের চলতি বছরের তালিকা অনুযায়ী লিঙ্গ সমতার দিক থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান ১৩৫টি দেশের মধ্যে ১০৮তম। যা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এক ধাপ নিচে এবং কুয়েত থেকে সামান্য উপরে।
যুদ্ধ ও দারিদ্র্যকে জয় করে দক্ষিণ কোরিয়া এশিয়ার মধ্যে চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির জায়গা দখল করলেও এখানে রাজনীতির ক্ষেত্রে পুরুষ নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি। নারীরা কেবল দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনই নয় বাণিজ্যিক ক্ষমতায়ন থেকেও এখনও অনেক দূরে।
এ বাস্তবতায় পার্ক ও তার সমর্থকরা দাবি করছেন প্রেসিডেন্টের ব¬ু হাউজ পর্যন্ত তার উত্তরণের মধ্য দিয়ে সামগ্রিকভাবে নারী অধিকার রক্ষার ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে। বেশ কিছু সংখ্যক নারী নেত্রীর উদ্দেশে পার্ক বলেন, পরিবর্তন ও সংস্কার নিয়ে প্রত্যেকেই কথা বলেন। কিন্তু প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনই হবে এ যাবত দেশটির সবচেয়ে বড় সংস্কার ও পরিবর্তন। পার্কের ক্ষমতাসীন নিউ ফ্রন্টিয়ার পার্টি (এনএফপি) তাকে ‘প্রস্তুত নারী প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করছে। এমনকি তার পোস্টারেও শোভা পাচ্ছে দলের এ উক্তি। দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক নেতা পার্ক চুং হি’র কন্যা পার্ক গিউন হাই অবিবাহিতা। ধারণা করা হচ্ছে তিনি বয়স্ক ও রক্ষণশীল ভোটারদের ভোট পাবেন। কারণ পার্ককে দুর্ভাগা প্রিন্সেস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যার বাবা-মা আততায়ীর হাতে নিহত হয়েছেন। তবে জীবনের গভীর এ ট্র্যাজেডির মধ্যেও তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন নিজস্ব যোগ্যতায়।
