গাজীপুরে যত্রতত্র আবর্জনা

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:২৮

সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে নগরবাসীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সিটি করপোরেশনে কোনো স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন বর্জ্য নগরীর যত্রতত্র বিভিন্ন স্থানে ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে রাস্তার পাশে এবং আবাসিক এলাকার মধ্যে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে নাগরিকদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। নাগরিকদের এ দুর্ভোগ লাঘবে ইতোমধ্যে সরকারের কাছে ২০০ বিঘা জমি চাওয়া হয়েছে জানিয়ে সিটি মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, এতে সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। এই বিপুল জনসংখ্যা অধ্যুষিত নগরীতে স্থায়ী কোনো ডাম্পিং স্টেশন গড়ে তোলা হয়নি। যে কারণে নগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডের বিপুল পরিমাণ বর্জ্য যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে কড্ডা-বাইমাইল এলাকা, পল্লীবিদ্যুত্ ও সাবেক সার্ডি গেটের কাছে গাজীপুর-ঢাকা সড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে বোর্ডবাজার-বড়বাড়ী এলাকার মাঝামাঝি মত্স্য খামারের সামনে, ছয়দানা, চান্দনা চৌরাস্তা সড়ক দ্বীপ, জয়দেবপুর স্টেশন রোডসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও দোকানপাট থেকে বর্জ্য ভ্যানযোগে এনে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হচ্ছে। পরে সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ি সেই বর্জ্য সংগ্রহ করে কড্ডা-বাইমাইল এলাকার অস্থায়ী ডাম্পিং স্টেশনে এনে ফেলছে। নগরীর প্রধান প্রধান সড়কের পাশে রাখা ময়লা-আবর্জনা উপচে রাস্তার মাঝে পর্যন্ত চলে আসছে। এতে নগরীর পরিবেশ যেমন মারাত্মক দূষিত হচ্ছে তেমনই নগরবাসীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নাক-মুখ চেপে ধরে উত্কট দুর্গন্ধময় এসব আবর্জনার ভাগাড়ের পাশ দিয়ে প্রতিনিয়ত নগরবাসীদের চলাচল করতে হচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন যানবাহনে চলাচলকারী যাত্রীদেরও নাক-মুখ চেপে যাতায়াত করতে দেখা যায়। সামান্য বৃষ্টি হলে রাস্তায় উপচেপড়া ময়লা-আবর্জনার বিকট দুর্গন্ধে নগরবাসীর অবস্থা আরো দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

সিটি করপোরেশনসূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন বর্জ্য নগরীর বিভিন্ন স্থানে ফেলা হয়। এত বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাব রয়েছে। বর্জ্য অপসারণের জন্য সিটি করপোরেশনের মাত্র ৩৬টি গাড়ি রয়েছে যা মোটেও পর্যাপ্ত নয়। নগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার ব্যবসায়ী এম জেড তালুকদার জানান, গুরুত্বপূর্ণ এ ট্রাফিক মোড়ে ফেলে রাখা ময়লা-আবর্জনা প্রতিদিন অপসারণ করা হয় না। ফলে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় ওয়্যারলেস গেট এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব মিয়া জানান, গাজীপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের পল্লীবিদ্যুত্ সমিতির অফিসের কাছে রাস্তায় অনেকটা জুড়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা হচ্ছে। এটি বর্তমানে অনেকটা স্থায়ী ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দিনের পর দিন ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকায় পুরো এলাকা দূষিত হয়ে পড়েছে। ফলে এখানে এখন বসবাস করাই দায়।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন জানান, কড্ডা-বাইমাইল এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন করার জন্য ২৫ দশমিক ৭৯ বিঘা জমি বরাদ্দ নেওয়া হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের এ জমি বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগ করা হয়েছে। এখানে যে পরিমাণ বর্জ্য জমা হবে তা বায়ো-গ্যাস ও জৈব সারে পরিণত করা হবে। এতে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সিটির রাজস্ব আয়েরও ব্যবস্থা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থায়ী কমিটির সভাপতি ৩৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী মনিরুজ্জামান জানান, প্রয়োজনীয় লোকবল ও গাড়ির অভাবে সুষ্ঠু বর্জ্য-ব্যবস্থাপনা করা যাচ্ছে না। তবে জিপিপি কার্যক্রমের আওতায় প্রতিটি ওয়ার্ডে এক বিঘা জমির ওপর ডাম্পিং স্টেশন করার জন্য ৭০০ কোটি টাকার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা করে গাজীপুরকে গ্রিন ও ক্লিন সিটিতে পরিণত করতে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছি। এ জন্য সরকারের কাছে ২০০ বিঘা জমি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সালনা এলাকায় ৩০ বিঘা জমি আমরা নির্ধারণ করেছি। বর্তমানে কড্ডা-বাইমাইল এলাকায় যে অস্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন রয়েছে সেখানে পরিকল্পিতভাবে আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন গড়ে তোলা হবে। তিনি আরো জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডেই একটি করে ডাম্পিং স্টেশন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় লোকবল ও গাড়ির পরিমাণ বৃদ্ধি করা হবে।