রানীনগরের কাশিমপুর রাজবাড়িটি প্রভাবশালীদের দখলে

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৬
নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার কাশিমপুর রাজবাড়িটি এখন স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে। কাশিমপুর রাজবাড়িটি একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন যা সংস্কারের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই রাজ বাড়িটির সকল কারুকার্য ধ্বংস হতে চলেছে। পাগলা রাজার রাজবাড়ি বলে এটি বেশি পরিচিত। রাজবাড়িটির উত্তর প্রান্তের মন্দিরটির কিছু অংশ এখনও টিকে আছে। এই বিষয়ে রাজবাড়ীর এক সময়ের কর্মচারী প্রবীণ ব্যাক্তি মো. ইসো প্রাং (৮৫) জানান যে, এই রাজারা নাটোরের রাজার বংশধররা এই এলাকা দেখাশোনার জন্য প্রথম এখানে রাজ বংশের সূচনা করেছিলেন। শ্রী অন্নদা প্রসন্ন লাহিড়ী বাহাদুর ছিলেন এই রাজত্বের শেষ রাজা। তার চার ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। তিনি আরও জানান যে, ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হওয়ার পর এই রাজবংশের সবাই এই রাজত্ব ছেড়ে পালিয়ে যান শুধু ছোট রাজা শ্রী শক্তি প্রসন্ন লাহিড়ী বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এখানে ছিলেন। রাজবাড়ির মূল ভবনের সামনের চারটি গম্বুজ কোনমতে মাথা উঁচু করে এই রাজবাড়ির স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয় মানুষদের অবৈধ দখল ও অত্যাচারে সবই ধ্বংসের মুখে। রাজ বাড়ির বৈঠকখানার কিছু অংশ বর্তমানে কাশিমপুর ইউপি ভূমি অফিস হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শত শত বিঘা জমি ও পুকুর স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রাজনীতির ছত্র-ছায়ায় দখল করে রেখেছে। বেশির ভাগই ধানের চাতাল তৈরি করে অবৈধভাবে ব্যবহার করছে। আর বিশাল অর্থের আয়কর থেকে ফাঁকিতে পড়ছে সরকার। সরেজমিনে গিয়ে দখলকারীদের এসব জায়গা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তারা বিভিন্নভাবে এড়িয়ে যান। উত্তর চাইলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম বলে পার হয়ে যান ।