ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রার্থীরা, সহিংসতায় আহত ১০

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪৬
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণার শেষদিনে গতকাল ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। প্রার্থীরা দিনভর ছুটেছেন নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। ভোটারদের কাছে গিয়ে দিয়েছেন নানা প্রতিশ্রুতি। রংপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জাপার (এ) বহিষ্কৃত নেতা একেএম আব্দুর রউফ মানিক (চশমা) নিজেকে জাতীয় পার্টির (্এ) প্রার্থী হিসেবে মাইকিং করেছেন। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে ভোট না দেয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আহবান জানিয়েছে দলটি। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তবে জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির (এ) সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, জাতীয় পার্টি থেকে কাউকে সমর্থন দেয়া হয়নি। মানিককেও নয়। জাতীয় পার্টির (এ) বহিষ্কৃত নেতা ও মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার পথসভায় হামলা এবং কয়েকজনকে আহত করার ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত সোমবার রাতে মহানগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড় এলাকায় মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার পথসভায় একদল যুবক হামলা চালায়। পরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। রাতে মোস্তফার সঙ্গী আব্দুল হান্নানকে তার বাড়ির সামনে কে বা কারা ধারালো ছোরা দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার জন্য মোস্তফা জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির (এ) সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গাকে দায়ী করেছেন। এছাড়াও রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের এক কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর প্রচারাভিযানে প্রতিপক্ষের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের পানবাড়ী গ্রামে এ হামলা হয়। কোতোয়ালি থানার ওসি আলতাফ হোসেন বলেন, পানবাড়ী এলাকার রাজু মিয়া কর্মীদের নিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী মাসুদুল হক রুবেলের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় একই এলাকার আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী শাহাদত্ হোসেনের কর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাউন্সিলর পদপ্রার্থী রুবেল অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ শাহাদত্ তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমার কর্মীর উপর হামলা চালিয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাহাদত্ হোসেন বলেন, নিজেরাই মারামারি করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে তারা। মেয়র প্রার্থীদের প্রচারণা আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক এমপি শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু (মোটর সাইকেল) গতকাল সিটি করপোরেশন এলাকার কামারপাড়া, বাবুখাঁ, গণেশপুর, গুড়াতিপাড়া, নুরপুর, কলোনী, মডার্ন ও হাজিরহাট এলাকায় তার নির্বাচনী গণসংযোগ চালান। জাতীয় পার্টির (এ) বহিষ্কৃত নেতা ও রংপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা (হাঁস) হনুমানতলা, মাউড়াপট্টি, জলকর, পাকারমাথা, জুম্মাপাড়া, তামপাট, স্টেশন, দর্শনা এলাকায় গণসংযোগ চালান। রংপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জাপার (এ) বহিষ্কৃত নেতা একেএম আব্দুর রউফ মানিক (চশমা) উত্তম, নীলকণ্ঠ এলাকায় গণসংযোগ চালান। পরে তিনি উত্তর মনোহর ও সিটি বাজার এলাকায় পথসভা করেন। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি (দোয়াত কলম) সিওবাজার, চওরাহাট, খটখটিয়া, সন্ন্যাসীর দীঘি, ফুল আমেরতল ও হাজিরহাট এলাকায় তার নির্বাচনী গণসংযোগ চালান। নাগরিক ঐক্যের ব্যানারে ইঞ্জিনিয়ার ফারুখ আজীজ শাহীন (ঘোড়া) স্টেশন, শাপলা চত্বর, কলোনী, হাড়াটি, সিটি বাজার, ধাপ, মেডিক্যাল মোড়, গোমস্তাপাড়া এলাকায় গণসংযোগ চালান। স্বতন্ত্র প্রার্থী আলী হায়দার সরকার দুলু (টেবিল) হনুমানতলা, জলকর, আশু কুকরুল, সিটি বাজার, গুদরি বাজার এলাকায় গণসংযোগ চালান। বিএনপি নেতা ও গণমঞ্চের প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা (আনারস) নিউ মার্কেট, নবাবগঞ্জ বাজার, সেন্ট্রাল রোড, রঘু বাজার এলাকায় ভোট প্রার্থনা করেন। এছাড়াও তিনি সুপার মার্কেট মোড় ও মাহিগঞ্জ এলাকায় পথসভা করেন। বাসদ জেলা সমন্বয়কারী কমরেড আব্দুল কুদ্দুস (তালা) সুপার মার্কেট, নবাবগঞ্জ, গুদরি বাজার, মেডিক্যাল পূর্বগেট, হনুমানতলা, জলকর, কুকরুল, নীলকণ্ঠ, উত্তম, হাজিরহাট, কলাবাগান, কেল্লাবন্দ, বুড়িরহাট, কদমতলা এলাকায় তার নির্বাচনী গণসংযোগ চালান। ১২ মেয়র ও ৪৮১ কাউন্সিলর প্রার্থী রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১২ জন প্রার্থী ও ৩৩টি ওয়ার্ডের সাধারণ এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৪৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩২৭ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৯১ জন।