মার্কিন দূতাবাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি অপর্যাপ্ত ছিল

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৪৮
লিবিয়ার বেনগাজি শহরে চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বরে মার্কিন কনস্যুলেট অফিসে হামলার সময় সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ‘পুরোপুরি অপর্যাপ্ত’ ছিল। মার্কিন তদন্ত প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এ হামলায় তখন মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ চার আমেরিকান নাগরিক নিহত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলাকালে দূতাবাসের যথেষ্ট নিরাপত্তার অভাব ছিল। এ কারণে হামলাকারীরা নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। এতে আরও বলা হয়,পররাষ্ট্র দফতরের সেদিন পদ্ধতিগত ব্যর্থতাও ছিল। তাই কোন কর্মকর্তাই তাদের দায়িত্বে অবহেলার দায় এড়াতে পারেন না। সেদিনের হামলায় বেনগাজিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফার স্টিভেনসসহ চার কর্মকর্তা নিহত হন। রাষ্ট্রদূত স্টিভেনস ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান। কারণ ভবনে সশস্ত্র জঙ্গিদের হামলায় আগুন ধরে গেলে তখন রাষ্ট্রদূত একাকী একটি কক্ষে আটকা পড়ে যান এবং একপর্যায়ে তিনি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মাসব্যাপী চালানো ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কনস্যুলেট ভবনে হামলার হুমকির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন গোয়েন্দা তথ্যও ছিল না। তাই সবকিছু মিলিয়ে এখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব এবং দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রতিবেদনে পররাষ্ট্র দফতরের ব্যুরো অব ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি এবং ব্যুরো অব নিয়ার ইস্ট অ্যাফেয়ার্সের সমালোচনা করা হয়। এখানে তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা এবং সহযোগিতার অভাবকে দায়ী করা হয়। এছাড়া উভয় নিরাপত্তা সংস্থার পদ্ধতিগত ব্যর্থতার কথাও বলা হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে ২৯টি সুপারিশমালার কথা বলা হলেও এখানে কারও বিরুদ্ধে সরাসরি কোন ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়নি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বেনগাজিতে মার্কিন কনস্যুলেট অফিসে হামলায় তদন্ত প্রতিবেদনের দেয়া যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা একেবারে অপর্যাপ্ততার কথা বলা হয়েছে তাতে একমত হয়েছেন তিনি। তিনি তদন্ত প্রতিবেদনের দেয়া তথ্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে তাদের দেয়া সব সুপারিশ গ্রহণের কথা বলেছেন। মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেস কমিটিতে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের দেয়া সুপারিশসমূহ দ্রুত এবং পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। সেসঙ্গে মার্কিন বিভিন্ন দূতাবাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে পর্যায়ক্রমে ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।