পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে করা মামলার সাত আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আসামিরা যাতে দেশ ত্যাগ না করতে পারে সে বিষয়েও তদন্ত কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে ইমিগ্রেশনেও চিঠি দেয়া হবে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় দুদক কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
কমিশনার জানান, গতকালই এই মামলার এজাহারের কপি বিশ্বব্যাংকের ওয়াশিংটন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে এজাহারের একটি অনুলিপি বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসেও দেয়া হয়েছে।
এই মামলার সাত আসামির চারজন বাংলাদেশের। তারা হলেন সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগে দরপত্র মূল্যায়নে গঠিত কমিটির সদস্য সচিব কাজী মো. ফেরদৌস, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজ আহমেদ জাবের এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড প্ল্যানিং কনসালট্যান্ট লিমিটেডের (ইপিসি) উপ-পরিচালক মো. মোস্তফা। তিন বিদেশি আসামি হচ্ছেন কানাডীয় কোম্পানি এসএনসি লাভালিনের সাবেক পরিচালক (আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের) মোহাম্মদ ইসমাইল, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ সাহ ও কেভিন ওয়ালেস।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি অ্যালেন গোল্ডস্টেইন এক বিবৃতিতে জানান, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষক প্যানেল দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলার এজাহার পর্যালোচনার পর একটি প্রতিবেদন দেবেন। পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের বিষয়টি প্যানেলের ওই প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করবে। প্রতিবেদনটি পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে তাতে সন্তুষ্ট হলে তবেই পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক ফিরে আসবে। তিনি আরো বলেন, শুধু পদ্মা সেতু প্রকল্পেই নয়, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে অন্য সব প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নও এ প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
